আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
আজ বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম ও তাঁর মহান জীবনাদর্শ স্মরণ করে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশের বনু হাশিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি পিতা-মাতাকে হারান। তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব ও পরে চাচা আবু তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও উত্তম চরিত্রের জন্য মানুষের কাছে বিশেষভাবে সম্মানিত ছিলেন। এ কারণেই মক্কার মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’—বিশ্বস্ত ও আমানতদার—উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
চল্লিশ বছর বয়সে হেরা গুহায় তাঁর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় নবুয়তের মহান দায়িত্ব। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা এবং অন্যায়-অবিচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
মক্কায় দীর্ঘদিন নানা নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও মহানবী (সা.) ইসলামের দাওয়াত চালিয়ে যান। পরে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় তিনি এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ধর্মীয় সহনশীলতা, ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মহানবী (সা.)-এর জীবনের অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তাঁর ক্ষমাশীলতা। মক্কা বিজয়ের পর তিনি বহু নির্যাতনকারী ও বিরোধী ব্যক্তির প্রতিও সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করেন। তাঁর বিদায় হজের ভাষণে মানুষের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদার নিরাপত্তা, নারীর অধিকার এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
মহানবী (সা.)-এর পুরো জীবন ছিল মানবতার জন্য অনন্য আদর্শ। পবিত্র কোরআনে তাঁকে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’—অর্থাৎ উত্তম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।








