বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

আবু সাঈম খান, স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজের আঙ্গিনাকে ফুলের সুবাস ও সৌন্দর্যে মুখরিত করে তোলার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক সাবেরা খানের নিজ উদ্যোগে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতেই মূলত এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ।
কর্মসূচি চলাকালে অত্র প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য আবু রাহাত খান (সিরাজ) উপস্থিত থেকে ফুলের চারা রোপণ করে এই কল্যাণকর কাজের শুভ সূচনা করেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসের নির্ধারিত স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ রোপণ করেন প্রভাষক সাবেরা খান।
এ সময় কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। চমৎকার এই উদ্যোগের ফলে কলেজের পরিবেশ যেমন মনোরম হবে, তেমনি শিক্ষার্থীরাও প্রকৃতির প্রতি আরও যত্নশীল হতে অনুপ্রাণিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফরিদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, তিনজনের কারাদণ্ড

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, তিনজনের কারাদণ্ড

মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ফরিদপুরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফরিদপুরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ফরিদপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো এবং মোছাঃ জান্নাতুল সুলতানা
অভিযানে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে দণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে একজনকে ৫ দিনের এবং অপর দুজনকে ৩ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানে প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই রাসেল কবীর

মাদকবিরোধী অভিযান ও মোবাইল কোর্টের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

চরভদ্রাসনে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের পাশে চান প্রশাসন, মাদক-বাল্যবিবাহ রোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

চরভদ্রাসন প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের পাশে চান প্রশাসন, মাদক-বাল্যবিবাহ রোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার চর নটাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফর আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার মো. মাকসুদুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান বিন ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য মো. কুদ্দুস আলী, আমিনুল হক বাচ্চু, মোস্তফা কবির, ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলীসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং মাদক ও বাল্যবিবাহের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে শুধু বিদ্যালয় নয়, পরিবারের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং পড়াশোনায় কতটা মনোযোগী—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।
তারা আরও বলেন, মাদক ও বাল্যবিবাহ একটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই এসব সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে পরিবার, বিদ্যালয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান চেয়ে বাবার আকুতি, হা*ড্ডি-গু*ড্ডি হইলেও খুঁইজ্যা দ্যান

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান চেয়ে বাবার আকুতি, হা*ড্ডি-গু*ড্ডি হইলেও খুঁইজ্যা দ্যান

ফরিদপুরের সালথায় নিখোঁজের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি ১৩ বছর বয়সী ইমরান খানের। সন্তান জীবিত থাকুক কিংবা মৃত অন্তত তার সন্ধান চান অসহায় বাবা-মা। সন্তানের অপেক্ষায় দিন কাটছে জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করা পরিবারটির।
নিখোঁজ ইমরান খান সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ভদ্রপাড়া গ্রামের চুন্নু খানের বড় ছেলে। সংসারের হাল ধরতে মাঝেমধ্যে বাবার ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বের হতো সে। গত ১৪ জুন প্রতিবেশী শামীম মোল্যার (২১) ধান ভাঙানোর কথা বলে বাবার কাছ থেকে ভ্যান নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ইমরান।
নিখোঁজের তিন দিন পর ১৭ জুন বিকেলে পাশ্ববর্তী মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামে শামীমের আত্মীয় এলিনা বেগমের বাড়ি থেকে ইমরানের সঙ্গে থাকা ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একটি পাটখেত থেকে ইমরানের ব্যবহৃত জুতা ও একটি কোদাল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে রয়েছেন এবং দুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যা এখনো পলাতক।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইমরানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছে পরিবারটি। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সন্তানের ছবি হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমরানের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।
ইমরানের বাবা চুন্নু খান জানান, ছেলে জীবিত না মৃত কোনো তথ্যই তাঁরা জানেন না। আড়াই মাস ধরে খোঁজ করেও ছেলের সন্ধান না পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটছে তাঁদের। ছেলের মরদেহ হলেও যেন খুঁজে বের করে দেওয়া হয় এমন আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
ইমরানের মা হাজেরা বেগম জানান, ভ্যানটি উদ্ধার হলেও ছেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। ছেলেকে খুঁজতে ফরিদপুর হাসপাতাল, মুকসুদপুর হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন তাঁরা। কিন্তু কোথাও ইমরানের সন্ধান পাননি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৪ জুন বেলা ১১টার দিকে বাজারে গিয়ে ইমরানকে না পেয়ে তাঁরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে প্রতিবেশী শামীম মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইমরান কোথায় জানতে চাইলে শামীম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কথা বলেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
সালথা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজের তিন দিন পর ১৭ জুন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা করেন ইমরানের বাবা চুন্নু খান। মামলা দায়েরের দিনই বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রাম থেকে এনায়েত শেখের স্ত্রী এলিনা বেগমকে (৩২) আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ইমরানের ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত ভ্যান। ওই দিনই শামীম মোল্যা পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। একই দিন শামীমের বাবা টুকু মোল্যা (৬৫) ও স্ত্রী সাথী বেগমকে (২১) আটক করা হয়। পরে তদন্তকালে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রাম থেকে রাসেল মাতুব্বর (২১) নামে আরও এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে এ মামলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি। এ পর্যন্ত এই মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছি। কয়েকজন জামিনে আছেন, দুজন এখন জেলে রয়েছেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম পলাতক রয়েছেন। আমরা তাঁকে ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শামীমকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই এ ঘটনার জট খুলে যাবে।