বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তরা ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদ শুধু একজন আলোকিত চিকিৎসকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তি, যিনি মানব সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তরা ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদ শুধু একজন আলোকিত চিকিৎসকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তি, যিনি মানব সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ফরিদপুরের বরেণ্য চিকিৎসক,দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেরা শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র ডাঃ জাহেদ মেমোরিয়াল শিুশু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর ডাঃ জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের আয়োজনে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় এই স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম.এ সামাদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ফরিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রফেসর এ.বি.এম. সাত্তার, প্রফেসর মোঃ শাহজাহান, অধ্যাপক শেখ আব্দুস সামাদ, প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও ডাক্তার এম এ জলিল।
এ সময় মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, মোহাম্মদ মুরাদ মিয়া, মনির হোসেন মনির, শামসুল বারী শানু, খন্দকার মফিজুর রহমান জামাল, ডা: মোঃ নজরুল ইসলাম, সৈয়দ নাজমুল হোসেন লোচন, নাসির উদ্দিন মাহমুদ, মোহাম্মদ ফুয়াদ এবং ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল সহ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা মরহুম ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদের কর্মময় জীবন ও শিশুদের চিকিৎসা সেবায় তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদ শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তি ও মানব সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চিকিৎসাকে তিনি কখনো শুধু পেশা হিসেবে দেখেননি; বরং অসহায় মানুষের সেবা ও কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন।


বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার মনের মানুষ। তাঁর হৃদয় ছিল অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জন্য সবসময় উন্মুক্ত। অর্থের অভাবে কোনো রোগী যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন—এ বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন চিকিৎসক, অভিভাবক ও পরম বন্ধুর মতো।
তাঁরা আরও বলেন, মানবিকতা, দয়া, সহমর্মিতা ও পরোপকার ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর স্বভাব। তাঁর হাতে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন অসংখ্য মানুষ; আবার তাঁর মানবিক আচরণ ও সহানুভূতিতে আশ্বস্ত হয়েছেন আরও অসংখ্য রোগী ও স্বজন।
বক্তারা বলেন, ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদ তাঁর কর্ম ও মানবিকতার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে যে স্থান করে নিয়েছেন, তা কখনো মুছে যাওয়ার নয়। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডাঃ জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল এবং মানুষের সেবায় তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ আজও তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর মানবসেবার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করবে—এটাই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
পরে মরহুম ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদ এবং হাসপাতালের প্রয়াত সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মিয়া মোঃ জাহিদ হাসান। মোনাজাতে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার বাদ ফজর ফরিদপুর মুসলিম মিশন এতিমখানায় কোরআন পাকের খতম, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া অনুষ্টিত হয়। সকাল ৭টায় আলীপুর গোরস্থানে মরহুম ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করা হয়।দুপুরে ডাঃ জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে ভর্তি থাকা দুস্থ ও অসহায় রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

ফরিদপুরে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নায়াব ইউসুফ, বিতরণ করলেন নগদ অর্থ ও নতুন কাপড়

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট: প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নায়াব ইউসুফ, বিতরণ করলেন নগদ অর্থ ও নতুন কাপড়

শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ ও উৎসবের আমেজে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি, পূজার আয়োজন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের আয়োজক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগদ অর্থ ও নতুন কাপড় বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী, পূজামণ্ডপের আয়োজক ও সনাতন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি ।
পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি কৈজুরী, মাচ্চর, কৃষ্ণনগর ও কানাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া ফরিদপুর পৌর এলাকার বদরপুর, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও চৌধুরী বাড়ি এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পৌঁছালে আয়োজক ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাঁকে স্বাগত জানান।
পরিদর্শনকালে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আনন্দ, ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হয়।
সবাই যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে আন্তরিক থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও এলাকার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে তিনি আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান চৌধুরী রঞ্জন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনান, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরিজ, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু,ফরিদপুর জেলা কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকী, যুবদল নেতা রুবেল হোসেন দুলালসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডুমাইনে ১৮টি পূজামণ্ডপে ডুমাইন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্প্রীতির উদ্যোগ

মধুখালী প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
ডুমাইনে ১৮টি পূজামণ্ডপে ডুমাইন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্প্রীতির উদ্যোগ

‘সম্প্রীতির বন্ধনে, উৎসবের আনন্দে, মানবিকতার পাশে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ১৮টি পূজামণ্ডপে সৌহার্দ্যপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন ডুমাইন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল উৎসবের আনন্দে সবার পাশে দাঁড়ানো, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা।
এ বিষয়ে ডুমাইন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আজাদ মাহবুব বিপ্লব বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটিকে আমরা কোনো দান বা অনুগ্রহ হিসেবে দেখছি না; বরং আপনাদের আনন্দের সঙ্গে নিজেদের সামিল করা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি ছোট্ট প্রয়াস হিসেবে দেখছি।”
তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য মিলনমেলা। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি দেবর্ষী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মাসুম পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুবাস বিশ্বাস, ক্রীড়া সম্পাদক মো. শহীদুল বিশ্বাস, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রাম প্রসাদ, প্রচার সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন ও সদস্য টিটো সরকার।
ডুমাইন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

নগরকান্দার ডাংগীতে ট্রেনে কা*টা পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃ*ত্যু

সদরপুর ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
নগরকান্দার ডাংগীতে ট্রেনে কা*টা পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃ*ত্যু

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাংগী ইউনিয়নের পোড়াদিয়া গ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে নিহত যুবকের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।