৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তরা ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদ শুধু একজন আলোকিত চিকিৎসকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তি, যিনি মানব সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
ফরিদপুরের বরেণ্য চিকিৎসক,দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেরা শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র ডাঃ জাহেদ মেমোরিয়াল শিুশু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর ডাঃ জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের আয়োজনে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় এই স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম.এ সামাদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ফরিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রফেসর এ.বি.এম. সাত্তার, প্রফেসর মোঃ শাহজাহান, অধ্যাপক শেখ আব্দুস সামাদ, প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও ডাক্তার এম এ জলিল।
এ সময় মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, মোহাম্মদ মুরাদ মিয়া, মনির হোসেন মনির, শামসুল বারী শানু, খন্দকার মফিজুর রহমান জামাল, ডা: মোঃ নজরুল ইসলাম, সৈয়দ নাজমুল হোসেন লোচন, নাসির উদ্দিন মাহমুদ, মোহাম্মদ ফুয়াদ এবং ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল সহ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা মরহুম ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদের কর্মময় জীবন ও শিশুদের চিকিৎসা সেবায় তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদ শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তি ও মানব সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চিকিৎসাকে তিনি কখনো শুধু পেশা হিসেবে দেখেননি; বরং অসহায় মানুষের সেবা ও কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন।

বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার মনের মানুষ। তাঁর হৃদয় ছিল অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জন্য সবসময় উন্মুক্ত। অর্থের অভাবে কোনো রোগী যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন—এ বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন চিকিৎসক, অভিভাবক ও পরম বন্ধুর মতো।
তাঁরা আরও বলেন, মানবিকতা, দয়া, সহমর্মিতা ও পরোপকার ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর স্বভাব। তাঁর হাতে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন অসংখ্য মানুষ; আবার তাঁর মানবিক আচরণ ও সহানুভূতিতে আশ্বস্ত হয়েছেন আরও অসংখ্য রোগী ও স্বজন।
বক্তারা বলেন, ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদ তাঁর কর্ম ও মানবিকতার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে যে স্থান করে নিয়েছেন, তা কখনো মুছে যাওয়ার নয়। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডাঃ জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল এবং মানুষের সেবায় তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ আজও তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর মানবসেবার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করবে—এটাই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
পরে মরহুম ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদ এবং হাসপাতালের প্রয়াত সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মিয়া মোঃ জাহিদ হাসান। মোনাজাতে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার বাদ ফজর ফরিদপুর মুসলিম মিশন এতিমখানায় কোরআন পাকের খতম, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া অনুষ্টিত হয়। সকাল ৭টায় আলীপুর গোরস্থানে মরহুম ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করা হয়।দুপুরে ডাঃ জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে ভর্তি থাকা দুস্থ ও অসহায় রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।






