বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

পুরুষ প্রমাণ হওয়ায় দুই নারী অ্যাথলেট আজীবন নিষিদ্ধ সব পদক বাতিল

দৈনিক ফতেহাবাদ ডেস্ক: প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
পুরুষ প্রমাণ হওয়ায় দুই নারী অ্যাথলেট আজীবন নিষিদ্ধ সব পদক বাতিল
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কত হলে একজন অ্যাথলেট নারী শ্রেণিতে প্রতিযোগিতার অধিকার হারান—এটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের বিতর্ক; যার বাংলাদেশি সংস্করণের সিদ্ধান্ত এলো গতকাল। যেই সিদ্ধান্তে জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নারীদের প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দুজনের শরীরে যে হরমোনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, তা সাধারণ নারীদের তুলনায় অনেক বেশি। এ মাত্রা যাদের শরীরে থাকে, তাদের নারী নয়, চিকিৎসা শাস্ত্র পুরুষ হিসেবে নির্দেশ করে। এটি নিশ্চিত হওয়ার পর দুই ক্রীড়াবিদকে নারীদের সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের অর্জিত সব পদকও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জান্নাত বেগম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে খেলতেন কবিতা রায়। তাদের লিঙ্গ নির্ধারণসংক্রান্ত ইস্যুতে বিতর্ক চলছে অনেকদিন ধরেই। এ-সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার অনুরোধ জানানো হয়। সেই পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই গুরুত্বপূর্ণ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডের কাজ শেষ হয় ১১ মে। ১৬ মে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। সেই প্রতিবেদনের আলোকেই দুই ক্রীড়াবিদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় চিকিৎসা শাস্ত্র ও বিশ্ব অ্যাথলেটিকস সংস্থার বিধি অনুযায়ী দুজনকে নারী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জান্নাত বেগমের জ্যাভলিন ও ডিসকাস ইভেন্টে জাতীয় রেকর্ডের মালিক। তার ঝুলিতে রয়েছে আট স্বর্ণ, এক রুপা ও দুই ব্রোঞ্জ পদক। কবিতা রায় ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও চার গুণিতক ১০০ মিটার ইভেন্টে এক স্বর্ণ, এক রুপা ও দুই ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। তাদের অর্জিত সব পদকও বাতিল করেছে ফেডারেশন।
এ নিয়ম নিয়ে বিশ্বমঞ্চে লড়াই থেমে নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড়বিদ ক্যাস্টার সেমেনিয়ার মামলা এ বিতর্কের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সালে ক্রীড়া সালিশি আদালতে হেরে যাওয়ার পর তিনি ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে আপিল করেন। ২০২৩ সালে আদালতের একটি চেম্বার তার পক্ষে রায় দিলেও সুইজারল্যান্ড সরকার তা গ্র্যান্ড চেম্বারে পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। ২০২৫ সালের ১০ জুলাই গ্র্যান্ড চেম্বার চূড়ান্ত রায়ে জানান, সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে, কারণ সুইস ফেডারেল ট্রাইব্যুনাল সেমেনিয়ার আপত্তি যথাযথ কঠোরভাবে পর্যালোচনা করেনি। গোপনীয়তা ও বৈষম্যবিরোধী অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হওয়ায় আদালত তা বিবেচনায় নেননি—অর্থাৎ ডিএসডি নিয়মের মূল বৈধতা এখনো অক্ষুণ্নই রয়ে গেছে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোয়।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত কার্যত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেরই অনুসরণ। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় মানবিক জায়গায়—একজন অ্যাথলেট যিনি জন্মগতভাবেই এমন শারীরিক বৈশিষ্ট্য বহন করে বড় হয়েছেন, নিজের অজান্তেই যিনি বছরের পর বছর দৌড়েছেন কিংবা জ্যাভলিন ছুড়েছেন। তার জন্য এ রায় কতটা ন্যায্য শাস্তি, আর কতটা এক নিষ্ঠুর জীববৈজ্ঞানিক বাস্তবতার বলি হওয়া—তার উত্তর মেডিকেল রিপোর্টের সংখ্যায় নেই, আছে মানবিক বিবেচনার গভীরে।

ফরিদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, তিনজনের কারাদণ্ড

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, তিনজনের কারাদণ্ড

মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ফরিদপুরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফরিদপুরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ফরিদপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো এবং মোছাঃ জান্নাতুল সুলতানা
অভিযানে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে দণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে একজনকে ৫ দিনের এবং অপর দুজনকে ৩ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানে প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই রাসেল কবীর

মাদকবিরোধী অভিযান ও মোবাইল কোর্টের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

আবু সাঈম খান, স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজের আঙ্গিনাকে ফুলের সুবাস ও সৌন্দর্যে মুখরিত করে তোলার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক সাবেরা খানের নিজ উদ্যোগে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতেই মূলত এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ।
কর্মসূচি চলাকালে অত্র প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য আবু রাহাত খান (সিরাজ) উপস্থিত থেকে ফুলের চারা রোপণ করে এই কল্যাণকর কাজের শুভ সূচনা করেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসের নির্ধারিত স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ রোপণ করেন প্রভাষক সাবেরা খান।
এ সময় কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। চমৎকার এই উদ্যোগের ফলে কলেজের পরিবেশ যেমন মনোরম হবে, তেমনি শিক্ষার্থীরাও প্রকৃতির প্রতি আরও যত্নশীল হতে অনুপ্রাণিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

চরভদ্রাসনে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের পাশে চান প্রশাসন, মাদক-বাল্যবিবাহ রোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

চরভদ্রাসন প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের পাশে চান প্রশাসন, মাদক-বাল্যবিবাহ রোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার চর নটাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফর আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার মো. মাকসুদুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান বিন ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য মো. কুদ্দুস আলী, আমিনুল হক বাচ্চু, মোস্তফা কবির, ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলীসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং মাদক ও বাল্যবিবাহের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে শুধু বিদ্যালয় নয়, পরিবারের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং পড়াশোনায় কতটা মনোযোগী—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।
তারা আরও বলেন, মাদক ও বাল্যবিবাহ একটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই এসব সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে পরিবার, বিদ্যালয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।