ফরিদপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী অন্তঃসত্ত্বা, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় একদিনের ব্যবধানে ধর্ষণের দুটি পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। একটি ঘটনায় আংশিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও স্বামী-পরিত্যক্ত এক নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপর ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও অপর মামলার আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভরশেখর গ্রামের ৪০ বছর বয়সী ওই আংশিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী দীর্ঘদিন ধরে মামাবাড়িতে বসবাস করতেন। প্রায় দুই বছর আগে তার বিয়ে হলেও স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ নেই। জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী অহিদ শেখের বাড়িতে কাজ করার সময় তার ছেলে মেহেদী শেখের (২৭) সঙ্গে পরিচয় হয়। কাজের সুযোগে বিভিন্ন সময় প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকলেও সম্প্রতি ওই নারী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে স্বজনরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে অবহিত করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে তার স্বজন সুজন মোল্যা বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত মেহেদী শেখকে গ্রেপ্তার করে। আজ রবিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে একই দিনে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কেরশাইল এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরেকটি মামলা করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে মো. আসিফ শেখকে (২১)। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। নির্যাতিত স্কুলছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মামলারই তদন্ত চলছে। মেডিকেল রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। পরপর দুটি ধর্ষণের ঘটনায় বোয়ালমারীতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ মামলার আসামি মেহেদী শেখকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুই ভুক্তভোগীকেই চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







