মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধির পিতার ইন্তেকাল

দৈনিক ফতেহাবাদ ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধির পিতার ইন্তেকাল
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসাইনের পিতা মো : আক্তার হোসেন আজ সোমবার (৩আগষ্ট) সন্ধ্যা ছয়টায় তার নিজ বাসভবন বোয়ালমারী উপজেলার ফেলান নগর গ্রামে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি দীর্ঘদিন যাবত আর্থাইটিস রোগ সহ বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি ২ পুত্র এবং ৪ কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গিয়েছেন। মরহুমের নামাজে জানাজা আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বোয়ালমারী উপজেলার কুমার নগর চন্দ্রনা কবরস্থান প্রাঙ্গনে অনুষ্টিত হবে।পরে চন্দ্রনা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসাইনের পিতা মো : আক্তার হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল।এক শোক বিবৃতিতে তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

“ফরিদপুরে শুদ্ধি অভিযান” লাইসেন্সহীন-অনিয়মে বন্ধ ৫ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

দৈনিক ফতেহাবাদ ডেস্ক: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
“ফরিদপুরে শুদ্ধি অভিযান” লাইসেন্সহীন-অনিয়মে বন্ধ ৫ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নানা অনিয়ম, লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ফরিদপুরে একদিনেই পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে পরিচালিত এই অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি রোগীদের সরকারি কিংবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের এলাকায় সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান ও নাজমা নাইম, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বজলুর রশীদসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলি সিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা, লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও নবায়ন না করা, প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় গুরুতর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযানে এসব অভিযোগের সত্যতা মিললে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অথবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাতে কোনো রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি সংবেদনশীল খাত। মানুষের জীবন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম, জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে অভিযোগ আসছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ অভিযান জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পর্যায়ক্রমে চালানো হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারবে না, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুরে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা

আবু সাঈম খান প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা

ফরিদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ৪ আগস্ট ) বিকালে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের হলরুমে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, সড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জেলা পুলিশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, অবৈধ যানবাহন চলাচল এবং যাত্রী হয়রানি বন্ধে পুলিশ সদস্যদের কঠোর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ফরিদপুরের স্থানীয় পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত অংশীজনরা ফরিদপুর জেলার সড়ক ও পরিবহনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং তা নিরসনে জেলা পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে কৃষককে নির্যাতন শেষে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ । মারা যাওয়ার আগে ভিডিও সাক্ষাৎকারে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে গেলেন কৃষক ইউসুফ।

দৈনিক ফতেহাবাদ ডেস্ক: প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে কৃষককে নির্যাতন শেষে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ । মারা যাওয়ার আগে ভিডিও সাক্ষাৎকারে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে গেলেন কৃষক ইউসুফ।

ফরিদপুরে ইউসুফ আলী শেখ (৫৫) নামে এক কৃষককে জোরপূর্বকভাবে বিষাক্ত কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কীটনাশক খাওয়ানোর পূর্বে তাকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে পরিবার জানিয়েছেন। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার আগে তিনি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে নির্যাতনকারীদের পরিচয় ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে গেছেন।
আজ সোমবার (০৩ আগস্ট) ভোররাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত কৃষক চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় কৃষক ইউসুফ আলী শেখকে কৌশলে পদ্মার চরে ডেকে নিয়ে যায় একই এলাকার শামীম নামে এক যুবক। পরে সেখানে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি শারিরীকভাবে তাকে নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে তাঁর মুখে জোরপূর্বকভাবে বিষাক্ত কীটনাশক খাইয়ে দেন। এরপর তাকে স্থানীয় বশির মেম্বারের বাড়ির পাশে রেখে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় পল্লীচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে বমির সাথে নীলবর্ণের লালা নিঃসরণ হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। সেখানে দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে মারা যাওয়ার পূর্বে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে জোরপূর্বক কীটনাশক খাওয়ানোর ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। ওই ভিডিওতে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তির নাম বলেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় ছত্তার শেখের ছেলে শামীম শেখ ও মেয়ে ইয়াছমিন, শ্যালক আক্কাচ ও ইদ্রিস, ভাই নুরু এবং জুলহাস ও সজিব।
এছাড়া ভিডিওতে ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কেও তাকে বলতে শোনা যায়। তাতে স্থানীয় সত্তার শেখে স্ত্রী নিখোঁজের বিষয় তুলে ধরেন।এসব ঘটনা তাঁর পরিবার ও সৌদি প্রবাসী ভাই ইসমাইল শেখকেও পূর্ব থেকেও জানিয়েছিলেন।
ঘটনাটি নিখোঁজ নারীর ছেলে শামীম জানতে পারে। এরপর গত শনিবার (১ আগস্ট) কৌশলে ইউসুফ আলীকে পদ্মার চরে ডেকে নেয়। সেখানে নিয়ে শারিরীকভাবে নির্যাতন শেষে মুখে বিষাক্ত কীটনাশক খাইয়ে দেয়৷
নিহতের ভাই ইসমাইল শেখ বলেন, কোনো কারনে আসমা বেগমকে নিখোঁজের নাটক সাজানো হয়েছে। থানায় জিডিও করে তাঁরা। কিন্তু ওই নারীর সাথে তাঁর পরিবার ঠিকই যোগাযোগ রাখতেন। এরমধ্যে তাঁর মেয়ে আমার ভাইয়ের মোবাইল দিয়ে কথা বলে মায়ের সাথে। পরে পুলিশ আমার ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। পরে তাঁদের সাজানো নিখোঁজের ঘটনা আড়াল করতে এবং পুলিশ জেনে যাওয়ার ভয়ে আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী বলেন, ঘটনাটি জেনেছি এবং থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল করেছেন। এছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে। এই নিউজ লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছিল।