ফরিদপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডে পলিথিন ও বর্জ্যের উন্মুক্ত ভাগাড়: দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কয়েকশ পরিবার
ফরিদপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ারলেস পাড়া এলাকায় যত্রতত্র প্লাস্টিক-পলিথিন ফেলা এবং সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকশত পরিবারের মানুষ। এলাকার সাবেক কাউন্সিলর আনিসুর রহমান চৌধুরী সাবুলের বাসার সামনে সড়কের পাশের ফাঁকা জমিটি যত্রতত্র ফেলা গৃহস্থালি বর্জ্যের এক বিশাল উন্মুক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল ময়লার স্তূপ পরিষ্কার না করায় পরিস্থিতি এখন অনিয়ন্ত্রিত ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির বাসিন্দা নিয়মিত এখানে প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট ও ক্ষতিকর পলিথিন বর্জ্য ফেলে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই বর্জ্য জমে পচতে থাকায় পুরো এলাকায় তীব্র ও অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়, রাস্তাটি কাঁচা হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই সেখানে নোংরা পানি জমে ডোবার মতো আকার ধারণ করে কাদার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন জমে থাকা ময়লার বিষাক্ত ও গন্ধযুক্ত পানি এই বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন এলাকার শত শত মানুষকে বাধ্য হয়ে এই বিষাক্ত নোংরা পানি ও কাদা মাড়িয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা অবস্থা চলতে থাকায় পুরো এলাকায় মশা, মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে এই নোংরা পরিবেশের কারণে ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েড ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে, দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচলের অবসানসহ জরুরি ভিত্তিতে এই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা অপসারণের জন্য ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।







