ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে কৃষককে নির্যাতন শেষে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ । মারা যাওয়ার আগে ভিডিও সাক্ষাৎকারে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে গেলেন কৃষক ইউসুফ।
ফরিদপুরে ইউসুফ আলী শেখ (৫৫) নামে এক কৃষককে জোরপূর্বকভাবে বিষাক্ত কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কীটনাশক খাওয়ানোর পূর্বে তাকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে পরিবার জানিয়েছেন। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার আগে তিনি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে নির্যাতনকারীদের পরিচয় ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে গেছেন।
আজ সোমবার (০৩ আগস্ট) ভোররাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত কৃষক চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় কৃষক ইউসুফ আলী শেখকে কৌশলে পদ্মার চরে ডেকে নিয়ে যায় একই এলাকার শামীম নামে এক যুবক। পরে সেখানে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি শারিরীকভাবে তাকে নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে তাঁর মুখে জোরপূর্বকভাবে বিষাক্ত কীটনাশক খাইয়ে দেন। এরপর তাকে স্থানীয় বশির মেম্বারের বাড়ির পাশে রেখে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় পল্লীচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে বমির সাথে নীলবর্ণের লালা নিঃসরণ হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। সেখানে দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে মারা যাওয়ার পূর্বে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে জোরপূর্বক কীটনাশক খাওয়ানোর ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। ওই ভিডিওতে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তির নাম বলেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় ছত্তার শেখের ছেলে শামীম শেখ ও মেয়ে ইয়াছমিন, শ্যালক আক্কাচ ও ইদ্রিস, ভাই নুরু এবং জুলহাস ও সজিব।
এছাড়া ভিডিওতে ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কেও তাকে বলতে শোনা যায়। তাতে স্থানীয় সত্তার শেখে স্ত্রী নিখোঁজের বিষয় তুলে ধরেন।এসব ঘটনা তাঁর পরিবার ও সৌদি প্রবাসী ভাই ইসমাইল শেখকেও পূর্ব থেকেও জানিয়েছিলেন।
ঘটনাটি নিখোঁজ নারীর ছেলে শামীম জানতে পারে। এরপর গত শনিবার (১ আগস্ট) কৌশলে ইউসুফ আলীকে পদ্মার চরে ডেকে নেয়। সেখানে নিয়ে শারিরীকভাবে নির্যাতন শেষে মুখে বিষাক্ত কীটনাশক খাইয়ে দেয়৷
নিহতের ভাই ইসমাইল শেখ বলেন, কোনো কারনে আসমা বেগমকে নিখোঁজের নাটক সাজানো হয়েছে। থানায় জিডিও করে তাঁরা। কিন্তু ওই নারীর সাথে তাঁর পরিবার ঠিকই যোগাযোগ রাখতেন। এরমধ্যে তাঁর মেয়ে আমার ভাইয়ের মোবাইল দিয়ে কথা বলে মায়ের সাথে। পরে পুলিশ আমার ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। পরে তাঁদের সাজানো নিখোঁজের ঘটনা আড়াল করতে এবং পুলিশ জেনে যাওয়ার ভয়ে আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী বলেন, ঘটনাটি জেনেছি এবং থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল করেছেন। এছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে। এই নিউজ লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছিল।








