বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ফরিদপুরে ৬০ বছরের জাবেদা বেগম নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

এম এইচ সুজন মাহমুদ: স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৬০ বছরের জাবেদা বেগম নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ফরিদপুর সদর উপজেলার সাদিপুর গ্রামের জাবেদা বেগম (৬০) নিখোঁজ হয়েছেন। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার পর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিখোঁজ জাবেদা বেগমের পরনে কাপড় ছিল। তাঁর পায়ে কোনো জুতা বা স্যান্ডেল ছিল না। মাথার চুল কাঁচাপাকা এবং গায়ের রং ফর্সা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি জাবেদা বেগমের সন্ধান পেয়ে থাকলে নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
যোগাযোগ:
০১৭৯৩-৬৮৮১৮১
০১৭৩৬-৭৯৮০০৪

নদীভাঙ্গনের খবর পেয়ে চর আজমপুরে ছুটে গেলেন হাসিবুল হাসান হাসিব

আলফাডাঙ্গা(ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
নদীভাঙ্গনের খবর পেয়ে চর আজমপুরে ছুটে গেলেন হাসিবুল হাসান হাসিব

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৪ নং টগরবন্দ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের চর আজমপুর এলাকায় নদীভাঙ্গনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব।
মঙ্গলবার(৮ই সেপ্টেম্বর) ২০২৬ ইং বিকালে
স্থানীয়দের কাছ থেকে নদীভাঙ্গনের পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত চর আজমপুর এলাকায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে নদীতীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ভাঙ্গনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় দেখা যায়, নদীর পানির স্রোতে তীরবর্তী অংশের মাটি সরে গিয়ে পাড়ের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গনের কারণে নদীর তীরবর্তী সড়ক ও চলাচলের পথও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি ও স্রোতের তীব্রতা বাড়তে থাকলে ভাঙ্গন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও স্থানীয় বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
পরিদর্শনকালে হাসিবুল হাসান হাসিব স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ভাঙ্গন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন বিষয়টি নিয়ে আমি খুব শীঘ্রই উপর মহলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবো। যাতে করে শীঘ্রই নদী বাধের কাজ সম্পূর্ণ হয়।
পরিদর্শন কালে আরো বক্তব্য দেন ৮নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান খাজা,তিনি বলেন,ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। তবে কাজের পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবি, একসঙ্গে একশোটি বা দেড়শোটি জিওব্যাগ ফেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে ভাঙ্গনস্থলের কাছাকাছি থেকে বালু ভরাট করে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত জিওব্যাগ নদীতীরে ফেলা হোক।
নদী ভাঙ্গন পরিদর্শন কালে আরো উপস্তিত ছিলেন পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবু সালে মুসা, সহ বিএনপির অঙ্গ ও সহোযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙ্গন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
চর আজমপুরের নদীভাঙ্গন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ ও উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

সালথায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে আলোচনা সভা

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
সালথায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে আলোচনা সভা

মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা” এই প্রতিপাদ্য বিষয় কে সামনে রেখে ফরিদপুরের সালথায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহাঃ তাশেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিন।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান মোল্যা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আছাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপার ভাইজার ইতি গোস্বামী, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান, হাফিজুর রহমান, সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা মানে শুধু নিজের নাম সই করার দক্ষতা নয়। সাক্ষরতা হলো মানুষের চিন্তা করার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার এবং নিজের জীবনকে বদলে ফেলার মূল চাবিকাঠি। শিক্ষা মানুষকে অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে এবং সমাজে সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।

আল আমিন সরোয়ারের নেতৃত্বেই ২ বছর পর চালু হলো মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
আল আমিন সরোয়ারের নেতৃত্বেই  ২ বছর পর চালু হলো মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি

দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও প্রাণ ফিরেছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি)। সীমিত পরিসরে ওটি চালুর প্রথম দিনেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এক দরিদ্র প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন। এর মধ্য দিয়ে এ উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।মঙ্গলবার সকালে পূর্ণ গর্ভকাল শেষে জটিলতা নিয়ে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন উপজেলার গোন্দারদিয়া গ্রামের মো. জাকিরের মেয়ে মোসাম্মৎ জান্নাতি (১৮)। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রসূতির প্রসবজনিত জটিলতা শনাক্ত করেন। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”


বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে জরুরি ভিত্তিতে জান্নাতির সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। তবে সফলভাবে অপারেশন শেষ হওয়ার পর জন্ম নেয় একটি সুস্থ নবজাতক। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন চিকিৎসক ডা. সৌরিয়া সুলতানা। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন ডা. শাহবাজ খান। অপারেশন থিয়েটারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ওটি ইনচার্জ ফারজানা আহাম্মেদ চৈতি।
দীর্ঘ সময় পর অপারেশন থিয়েটার চালু হওয়া এবং প্রথম দিনেই সফলভাবে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি সেবার ক্ষেত্রে নতুন করে আস্থা তৈরি হবে এবং স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।


অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর সরকারি হাসপাতালেই অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ধরনের সেবা চালু হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। এতে জটিল প্রসূতিদের দ্রুত চিকিৎসার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।নাতনি ও নবজাতককে সুস্থ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে  জান্নাতির দাদী সুফিয়া বেগম   বলেন, “আমরা খুবই গরিব মানুষ। নাতনিকে নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। কোথায় যাব, কীভাবে চিকিৎসার খরচ দেব—এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু এই হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমাদের অনেক ভরসা হয়েছে। এখানে সুন্দরভাবে চিকিৎসা পেয়েছি, অপারেশনও সফল হয়েছে। এখন আমার নাতনি ও তার সন্তান দুজনেই ভালো আছে—এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে আমার !”
স্থানীয়রা মনে করেন, “এতদিন পর এই হাসপাতালে আবার অপারেশন চালু হয়েছে, এটা আমাদের মতো সাধারণ ও অসচ্ছল মানুষের জন্য অনেক বড় পাওয়া। বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। এই হাসপাতালেই যদি এভাবে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়, তাহলে এলাকার গরিব মানুষের অনেক উপকার হবে।


দীর্ঘ সময় পর মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওটি চালুর বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আল আমিন সারোয়ার বলেন, “স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি সীমিত পরিসরে পুনরায় চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। মা ও শিশু দুজনকেই বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“ভবিষ্যতে যদি হাসপাতালে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ এবং একজন অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা যায়, তাহলে নিয়মিতভাবেই এই সেবা চালু রাখা সম্ভব হবে। এতে মধুখালীসহ আশপাশের এলাকার অসংখ্য প্রসূতি ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।”