আল আমিন সরোয়ারের নেতৃত্বেই ২ বছর পর চালু হলো মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি
দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও প্রাণ ফিরেছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি)। সীমিত পরিসরে ওটি চালুর প্রথম দিনেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এক দরিদ্র প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন। এর মধ্য দিয়ে এ উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।মঙ্গলবার সকালে পূর্ণ গর্ভকাল শেষে জটিলতা নিয়ে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন উপজেলার গোন্দারদিয়া গ্রামের মো. জাকিরের মেয়ে মোসাম্মৎ জান্নাতি (১৮)। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রসূতির প্রসবজনিত জটিলতা শনাক্ত করেন। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে জরুরি ভিত্তিতে জান্নাতির সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। তবে সফলভাবে অপারেশন শেষ হওয়ার পর জন্ম নেয় একটি সুস্থ নবজাতক। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন চিকিৎসক ডা. সৌরিয়া সুলতানা। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন ডা. শাহবাজ খান। অপারেশন থিয়েটারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ওটি ইনচার্জ ফারজানা আহাম্মেদ চৈতি।
দীর্ঘ সময় পর অপারেশন থিয়েটার চালু হওয়া এবং প্রথম দিনেই সফলভাবে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি সেবার ক্ষেত্রে নতুন করে আস্থা তৈরি হবে এবং স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর সরকারি হাসপাতালেই অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ধরনের সেবা চালু হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। এতে জটিল প্রসূতিদের দ্রুত চিকিৎসার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।নাতনি ও নবজাতককে সুস্থ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে জান্নাতির দাদী সুফিয়া বেগম বলেন, “আমরা খুবই গরিব মানুষ। নাতনিকে নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। কোথায় যাব, কীভাবে চিকিৎসার খরচ দেব—এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু এই হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমাদের অনেক ভরসা হয়েছে। এখানে সুন্দরভাবে চিকিৎসা পেয়েছি, অপারেশনও সফল হয়েছে। এখন আমার নাতনি ও তার সন্তান দুজনেই ভালো আছে—এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে আমার !”
স্থানীয়রা মনে করেন, “এতদিন পর এই হাসপাতালে আবার অপারেশন চালু হয়েছে, এটা আমাদের মতো সাধারণ ও অসচ্ছল মানুষের জন্য অনেক বড় পাওয়া। বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। এই হাসপাতালেই যদি এভাবে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়, তাহলে এলাকার গরিব মানুষের অনেক উপকার হবে।

দীর্ঘ সময় পর মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওটি চালুর বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আল আমিন সারোয়ার বলেন, “স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি সীমিত পরিসরে পুনরায় চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। মা ও শিশু দুজনকেই বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“ভবিষ্যতে যদি হাসপাতালে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ এবং একজন অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা যায়, তাহলে নিয়মিতভাবেই এই সেবা চালু রাখা সম্ভব হবে। এতে মধুখালীসহ আশপাশের এলাকার অসংখ্য প্রসূতি ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।”








