ওমরাহ পালনে গিয়ে সৌদিতে প্রাণ গেল ফরিদপুরের মা-সহ দুই সন্তানের!
ফরিদপুরের সালথার এক পরিবারের পাঁচ সদস্য ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম প’রি’হাস- সৌদি আরবের সড়ক দু র্ঘ টনায় মা ও তার দুই সন্তান চিরবিদায় নিলেন। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাবা ও বড় ছেলে।
সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের কর্তা ও বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)।
আহত হয়েছেন রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও বড় ছেলে নাবিল। শফিকুল ইসলামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায়।
নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার মামাতো ভাই নাসিম আহমেদ কবীর সৌদি আরব থেকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের পাঁচ সদস্য ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কার পথে রওনা দেন। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তানিয়া তাহমিনা রিনা, তার ছেলে তাসবিক ও মেয়ে জারা নিহত হন। আহত হন রিনার স্বামী ও বড় ছেলে।
নিহতের ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ জানান, রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে তাদের প্রাইভেটকারকে পেছন থেকে একটি বড় যানবাহন সজোরে ধাক্কা দিলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তার বোন, ছোট ভাগনে ও ভাগনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত শফিকুল ইসলাম খোকন ও তার বড় ছেলে নাবিল সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নসহ স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।








