ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় একুশের চেতনা ধারণ করতে হবে
বাংলাদেশ সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেছেন, আধিপত্যবাদী ভারত সব দিক থেকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমাদের ওপর চালিয়ে যাচ্ছে। সেই আগ্রাসনকে মোকাবিলা করতে হলে আমাদেরকে একুশের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের শক্তিশালী স্যাটেলাইট টিভি, হিন্দি চলচ্চিত্র, বিশাল বাণিজ্যিক বাজারের মাধ্যমে এই আগ্রাসন চালাচ্ছে। ভারত কিন্তু আমাদের দেশকে সরাসরি দখল করবে না। তারা যেটা চাচ্ছে যে এই যে আমাদের ২০ কোটি লোকের বাজারটাকে তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। এজন্য এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সংস্কৃতিটা একটা উল্লেখযোগ্য।
বুধবার বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ বিষয়ক’ সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, নিজের অস্তিত্ব চেনার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো তার সাংস্কৃতিক পরিচয়। সাংস্কৃতিক পরিচয় মানুষকে তার দেশ, তার পূর্বপুরুষদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে। নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে মানুষ হীনমন্যতায় ভোগে না এবং যেকোনো সম্পর্কে যেকোনো সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। ফলে নিজস্ব সাহিত্য, শিল্পকলা, লোকসংগীত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
তিনি বলেন, নিজস্ব অস্তিত্ব, জাতীয় পরিচয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করার জন্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা জরুরি। কারণ কোনো যুদ্ধ বা রক্তপাত ছাড়াই একটি দেশের সমাজ ব্যবস্থাকে মানসিকভাবে এবং সরাসরি বলা যায় যে পরাধীন করে ফেলার সবচেয়ে সুস্পর্শ হাতিয়ার হচ্ছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে মানুষ যখন নিজের ঐতিহ্য ভুলতে শুরু করে তখন জাতির নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে যায়। আগ্রাসনের ফলে নিজের মাতৃভাষার চেয়ে বিদেশি ভাষার ব্যবহারকে আধুনিকতার প্রতীক মনে করা হয়। তাই যেকোনো মূল্যে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা আবশ্যক।
তিনি আরো বলেন, উন্নত দেশ বা আধিপত্য শক্তি অনেক সময় অনুন্নত দেশ বা ছোট দেশগুলোকে তাদের ব্যবসায় ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে সাংস্কৃতিক সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে।








