মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় একুশের চেতনা ধারণ করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় একুশের চেতনা ধারণ করতে হবে
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেছেন, আধিপত্যবাদী ভারত সব দিক থেকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমাদের ওপর চালিয়ে যাচ্ছে। সেই আগ্রাসনকে মোকাবিলা করতে হলে আমাদেরকে একুশের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের শক্তিশালী স্যাটেলাইট টিভি, হিন্দি চলচ্চিত্র, বিশাল বাণিজ্যিক বাজারের মাধ্যমে এই আগ্রাসন চালাচ্ছে। ভারত কিন্তু আমাদের দেশকে সরাসরি দখল করবে না। তারা যেটা চাচ্ছে যে এই যে আমাদের ২০ কোটি লোকের বাজারটাকে তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। এজন্য এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সংস্কৃতিটা একটা উল্লেখযোগ্য।

বুধবার বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ বিষয়ক’ সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, নিজের অস্তিত্ব চেনার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো তার সাংস্কৃতিক পরিচয়। সাংস্কৃতিক পরিচয় মানুষকে তার দেশ, তার পূর্বপুরুষদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে। নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে মানুষ হীনমন্যতায় ভোগে না এবং যেকোনো সম্পর্কে যেকোনো সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। ফলে নিজস্ব সাহিত্য, শিল্পকলা, লোকসংগীত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

তিনি বলেন, নিজস্ব অস্তিত্ব, জাতীয় পরিচয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করার জন্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা জরুরি। কারণ কোনো যুদ্ধ বা রক্তপাত ছাড়াই একটি দেশের সমাজ ব্যবস্থাকে মানসিকভাবে এবং সরাসরি বলা যায় যে পরাধীন করে ফেলার সবচেয়ে সুস্পর্শ হাতিয়ার হচ্ছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে মানুষ যখন নিজের ঐতিহ্য ভুলতে শুরু করে তখন জাতির নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে যায়। আগ্রাসনের ফলে নিজের মাতৃভাষার চেয়ে বিদেশি ভাষার ব্যবহারকে আধুনিকতার প্রতীক মনে করা হয়। তাই যেকোনো মূল্যে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা আবশ্যক।

তিনি আরো বলেন, উন্নত দেশ বা আধিপত্য শক্তি অনেক সময় অনুন্নত দেশ বা ছোট দেশগুলোকে তাদের ব্যবসায় ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে সাংস্কৃতিক সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের কমিটিতে নাম, পদ অস্বীকার করলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের কমিটিতে নাম, পদ অস্বীকার করলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা

ফরিদপুরের সালথায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের সদ্যঘোষিত কমিটিতে ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এস এম মঞ্জুরুল ইসলাম। ওই কমিটির সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সালথা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন এস এম মঞ্জুরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে এস এম মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, সদ্যঘোষিত সালথা উপজেলা যুবলীগের কমিটিতে ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে যে নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি তাঁর নয়। তিনি ওই পদ গ্রহণ করেননি এবং এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করেননি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ভবিষ্যতেও এ দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন। যুবলীগের কমিটিতে তাঁরই নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন ধারণা থেকে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ কারণে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান।
এ সময় ইসলামী বাংলাদেশের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু ও যুগ্ম আহ্বায়ক খান মো. শাহ সুলতান রাহাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তারা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নগরকান্দায় দুদিনে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম

নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় দুদিনে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম

ফরিদপুরের নগরকান্দায় দুদিনে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। রোববার ও সোমবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে গভীররাত পর্যন্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন, সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান এবং মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মিয়াজী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মোহাম্মদ আল- ফাহাদ, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসুল সামদানী আজাদ, মন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব মোঃ ফজলুর রহমান, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ- সভাপতি ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাবেক সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, সহ- সভাপতি মাহাবুব আলী মিয়া, সহ-সভাপতি আলিমুজ্জামান সেলু, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম – আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটু, সাবেক যুগ্ম- সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান শরীফ, নগরকান্দা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক তৈয়াবুর রহমান মাসুদ, সিনিয়র যুগ্ন- আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম বাবু, যুগ্ন- আহ্বায়ক তালুকদার মোরাদ হোসেন, নগরকান্দা পৌর যুবদলের আহবায়ক হেলালউদ্দীন হেলালসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেন, চলমান দূর্গা পূজায় প্রতিটি মন্দিরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দ্বায়িত্ব পালন করছে। এটাই প্রমান করে যে বিএনপি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাস করে।

সদরপুরে মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ অভিযান: জাল ও ট্রলার জব্দ, ৩ জেলের কারাদণ্ড

নুরুল ইসলাম, সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
সদরপুরে মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ অভিযান: জাল ও ট্রলার জব্দ, ৩ জেলের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আড়িয়াল খাঁ ও পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিস। এ সময় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও মাছ ধরার ট্রলার জব্দের পাশাপাশি নিয়ম অমান্য করায় তিন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে সদরপুর থানা পুলিশ।
অভিযানে যা জব্দ করা হয়েছে
সারাদিনব্যাপী পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে নদী থেকে ৮০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ১টি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করা হয়।
এসময় জব্দকৃত ৮০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ভষ্মিভুত করা হয় এবং ৫ কেজি মা ইলিশ উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় বিলি করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা
অভিযান শেষে সোমবার রাত ৯টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিন। এ সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারের দায়ে ৩ জেলেকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: ১. রুবেল হোসেন (পিতা: মজিবর শিকদার, গ্রাম: চর বলাশিয়া, ইউনিয়ন: ঢেউখালী) ২. হিরণ কাড়াল (পিতা: দবির কাড়াল, গ্রাম: কাড়াল কান্দি, ইউনিয়ন: চর নাসিরপুর) ৩. কুদ্দুস খলিফা (পিতা: কাশেম খলিফা, গ্রাম: হালিম হাওলাদার কান্দি, ইউনিয়ন: চর নাসিরপুর)
অভিযানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
যৌথ এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আবরার।
প্রশাসনের কঠোর বার্তা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সুরক্ষার মাধ্যমে এর উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও তৎপরতা নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।