শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফরিদপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হামলা-সংঘর্ষে আহত ৩০

দৈনিক ফতেহাবাদ ডেস্ক: প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হামলা-সংঘর্ষে আহত ৩০
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ফরিদপুরে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বোয়ালমারীতে দুইপক্ষের মধ্যে হামলা ও দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে হামলার পর রবিবার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একপক্ষের হামলার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে সোমবার সকালে জানিয়েছেন বোয়ালমারী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারটি বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান (৫ আগস্টের পর) ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের (মানবতাবিরোধী মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাবেক জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। ওই সময় মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। এরপর মান্নান মাতুব্বরসহ তার পক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গেলে ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ জিহাদপন্থি লোকজন নেয়।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার পক্ষের লোকজন এলাকায় ফিরে এলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার ময়েনদিয়া দাইপাড়া এলাকায় একটি দোকানে হামলার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের কয়েকজন সমর্থক ওই হামলা চালান। এর পরদিন শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে গেলে জিহাদপন্থি যুবদল নেতা সোলায়মান মাতুব্বরের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় এক ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ীর কাছে ৪ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। পরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জড়ো হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সোলায়মান আহত হন।
খবর পেয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ বাজারে গিয়ে সোলায়মানকে উদ্ধার করে একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। জিহাদের অভিযোগ, সেখানে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। এ হামলার জন্য তিনি আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজনকে দায়ী করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জিহাদপন্থি যুবদল নেতা মাহবুব হাসান সজিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর বাজারে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। বাজারকে তার প্রভাবমুক্ত করতে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদকে উপদেষ্টা করা হয়েছিল। শনিবার মান্নান মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে জিহাদ ও সোলায়মান আহত হন।
অন্যদিকে ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মজিবর রহমান মোল্যার অভিযোগ, জিহাদ লোকজন নিয়ে এলাকায় এসে হামলা চালান। সাধারণ দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী মাওলানা মাসুদুর রহমানও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। শনিবারও এক ব্যবসায়ীর কাছে চার হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শনিবারের হামলার জের ধরে রবিবার বিকেল ৪টার দিকে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। একপর্যায়ে সংঘর্ষটি আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সালথার খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে একপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বোয়ালমারীর ময়েনদিয়ার আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা ও মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন রবিবার রাতে বলেন, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় দুইপক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধতে পারে। ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন আতঙ্কে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
আজ সোমবার সকালে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিহাদের উপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পরে দুইজনকে গতকাল আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট: প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ফরিদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, সদর উপজেলা শাখা ও পৌর শাখার উদ্যোগে শহরের শ্রীঅঙ্গন থেকে এ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রশিদ বাচ্চু, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম টি আকতার টুটুল এবং মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরিজ।
এ সময় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি সুকেশ সাহা ও অসীম কুমার সাহাসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রদীপ কুমার রায়।
বক্তারা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি সকলের সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পরে শ্রীঅঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শ্রীঅঙ্গনে এসে শেষ হয়। এতে ফরিদপুর শহর ও বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত অংশ নেন।

সালথায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
সালথায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা

ফরিদপুরের সালথায় নানা আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গল শোভাযাত্রাটি সালথার কেন্দ্রীয় মন্দির চত্বর থেকে বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি, রাম-সীতা ও লব-কুশসহ বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্র এবং শ্রীকৃষ্ণের জীবনের নানা আখ্যান ও ধর্মীয় আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়। নানা সাজে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন ভক্তরা। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অজয় কর, সালথা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি সমীর কুমার সাহাসহ প্রহ্লাদ, অসিত কুমার নাগ, বিপ্লব কুমার সাহা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ভক্তবৃন্দ।
হিন্দু পুরাণমতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, যখন পাশবিক শক্তি সত্য, সুন্দর ও পবিত্রতাকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন অসুর শক্তির বিনাশ, মানবতার রক্ষা এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে।
মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি ।। -উন্নয়ন ও জনস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান

তানভীর নাহিদ, স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি ।। -উন্নয়ন ও জনস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান

ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ফরিদপুর প্রেসক্লাব পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন শিল্পপতি ও সমাজসেবক চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ, সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান ফরিদ, সিনিয়র সাংবাদিক তমিজ উদ্দিন তাজ, সিনিয়র সাংবাদিক আলিমুজ্জামান রনি, এস.এ মাসুদুর রহমান তরুণ, তরিকুল ইসলাম হিমেল, এস.এম মনিরুজ্জামান, আশরাফুজ্জামান দুলাল ও শেখ সাইফুল ইসলাম অহিদ।
মতবিনিময় সভায় চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি বলেন, “আমাদের পরিবার যুগ যুগ ধরে মানুষের সেবা করে আসছে। আপনারা ফরিদপুরের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কথা স্বাধীনভাবে লিখবেন। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে মানুষ যাতে কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবাই মিলে একটি চমৎকার ফরিদপুর গড়ে তুলবো—এটাই আমাদের স্বপ্ন।”
তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা এবং সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে ফরিদপুরের উন্নয়ন, জনস্বার্থ এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
সভায় বক্তব্যকালে সাংবাদিকরা সংসদ সদস্যকে জানান, ফরিদপুরের সার্বিক উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, শহরের যানজট নিরসন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং জনস্বার্থে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ মানুষ যাতে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এর আগে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি ফরিদপুর প্রেসক্লাবে পৌঁছালে তাকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।