ফরিদপুরে হাটের মধ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা, বিএনপি নেতাসহ আহত ২
ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া হাটে প্রকাশ্য দিবালোকে একদল দুর্বৃত্তের সশস্ত্র হামলায় বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ও যুবদল নেতা সোলাইমান মাতুব্বর নামে ২ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারের শনিবার হাটবার হওয়ায় প্রতিদিনের মতো আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে বাজার করতে আসেন। বাজার চলাকালীন পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খারদিয়া এলাকার সোলায়মান মাতুব্বর বাজার করতে হাটে আসলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দুবৃর্ত্ত দল তার ওপর হামলা চালায়। হামলা সোলায়মান মাতুব্বর মারাত্মক আহত হন। খবর পেয়ে সালথা উপজেলা বিএনপি নেতা ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ছেলে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ঘটনাস্থলে এসে আহত সোলায়মানকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এর কিছুক্ষণ পর রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার পাইপ ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফার্মেসির মধ্যে ঢুকে মুশফিক বিল্লাহ্ জিহাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনিও মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী মান্নান মাতুব্বর ও নটখোলা গ্রামের তারা মিয়ার নেতৃত্ব মান্নান মাতুব্বরের ছেলে মাসুদ রানা ও মজনু মাতুব্বর, স্থানীয় যুবলীগ নেতা পান্নু মাতুব্বর, কুদ্দুস মাতুব্বরের ছেলে ফারুক মাতুব্বর ও মারুফ মাতুব্বর, ইয়াসিনসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ১০ থেকে ১২ জনের একটি দুবৃর্ত্ত দল জিহাদ ও সোলায়মানের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহতকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







