ফরিদপুরে অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর পৈতৃক বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি

ফরিদপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ও কণ্ঠশিল্পী ফজলুর রহমান বাবুর পৈতৃক বাসভবন ‘কামরাঙ্গা’য় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা বাসার বৈদ্যুতিক তার, গ্যারেজের তার এবং দুটি স্প্লিট এসির ভেতরের তামার তার কেটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন গুণী এই শিল্পী।
জানা গেছে, পেশাগত কারণে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও মাসে এক-দুইবার ফরিদপুরের পৈতৃক বাড়িতে আসেন ফজলুর রহমান বাবু। গত সোমবার রাতে ঢাকায় অবস্থানরত এই অভিনেতা নিজ বাড়িতে এসে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় থানা-পুলিশকে অবহিত করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, চোরেরা পুরো বাসার বৈদ্যুতিক লাইন ও গ্যারেজের তার কেটে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বাসার ফ্রিজে থাকা খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।
পরে ছাদে গিয়ে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা দুটি স্প্লিট এসির বিভিন্ন অংশ নষ্ট করে ভেতরের তামার তার কেটে নিয়ে গেছে।
ফজলুর রহমান বাবু জানান, প্রায় ছয়-সাত মাস আগেও একইভাবে তাঁর বাসার বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে গিয়েছিল চোরেরা।

তিনি বলেন, “শুধু আমার বাসাতেই নয়, আশপাশের প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকেই নিয়মিত এসি, তার ও গ্যারেজের সরঞ্জাম চুরি হচ্ছে। একসময় পশ্চিম আলীপুর অত্যন্ত শান্ত ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম আলীপুর এলাকায় চোর চক্রের উৎপাত দিন দিন বেড়েই চলেছে। পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাড়িতেও সম্প্রতি চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বৈদ্যুতিক তার কাটার সময় ‘স্বপন’ নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে তিনি চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।

একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু পুলিশি তৎপরতা বাড়ালেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। চুরি প্রতিরোধে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের পাশাপাশি মাদকসেবী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।








