বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদপুরে ৮৭ হাজার হেক্টরে পাটের আবাদ, ২ লাখ টন উৎপাদনের আশা কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ।

দৈনিক ফতেহাবাদ ডেস্ক: প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৮৭ হাজার হেক্টরে পাটের আবাদ, ২ লাখ টন উৎপাদনের আশা কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ।
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
ফরিদপুরে ৮৭ হাজার হেক্টরে পাটের আবাদ, ২ লাখ টন উৎপাদনের আশা করছেন তারা কিন্তু বর্ষা মৌসুমে জেলার ৯ উপজেলার কোথায় খালে পানি আছে আবার কোথাও পানি নেই। এর কারন হিসেবে সরেজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে দেখাগেছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী কতিয় পুলিশের লোক,কিছু দলীয় নেতাকর্মী আবার কেদথাও ধনবান আওয়ামীলীগ নেতা যাদের এখনও বিএনপি জামাই আদরে রাখছেন, তারা পরস্পরের যোগসাজশে ছোট খাল বিল ভরাট করে নিজেদের বাড়ী ঘর তৈরী করায় বহু খালের পানির প্রবাহ কমে গেছে।
আবার অনেক জায়গায় উচু ভুমি থাকার সেখানে অব্যাহত বর্ষনেও পানি আটকায়নি। ফলেও বৃষ্টির দিনে পানির অভাব দেখা দেওয়ায় বৃষ্টির মধ্যেই পাম্পকল কোথাও স্যালোমেশিনে পানি তুলে ধান ক্ষেতে পানি দিতে হচ্ছে। অপরদিকে পাতাল থেকে পানি তুলে পুকুর ভরে পাট পঁচানোর কাজ সারছেন কৃষকরা।
এতে করে কৃষককুল পাট পঁচানো খুবই চিন্তায় আছেন। কিন্ত দেখার যেমন কেউ নেই। বললে ব্যবস্হা নেওয়ারও কেই নেই। এরকম ঘটনা ফরিদপুর সদর থানা, মধুখালি, চরভদ্রাসন,সালথা এলাকায় এরকম ঘটনা দৃশ্যমান হয়ে আছে।
চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা, জাগ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কিন্তু পাট পঁচা নিয়ে বাঁধাও কম নয়।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার প্রায় দুই লাখ টন পাট উৎপাদনের আশা করছে ফরিদপুর কৃষি বিভাগ। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরদ।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এবার পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার টন। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ২ দশমিক ২৪ টন হবে বলে আশা করছেন, কৃষি বিভাগ।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ, অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামান বলেন, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
কৃষি বিভাগের এক জরিপে দেখাগেছে,
দেশের মোট পাট উৎপাদনে প্রায় ৩০ শতাংশ পাট হয় ফরিদপুরে জেলায়। এই অঞ্চলের পাট গুণে ও মানে বিখ্যাত বলে দাবি এই কৃষি কর্মকর্তার। তাই তো ইতিমধ্যেই ফরিদপুর জেলা প্রশাসন, ঘোষণা করছেন, “সোনালী আঁশে ভরপুর আমাদের ফরিদপুর”।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সেচের প্রয়োজন ছিল। সেইসঙ্গে সার, জ্বালানি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এ ছাড়া প্রতিবছর শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট চাষে লাভের পরিমাণও কমে যাচ্ছে।
সদর উপজেলার অম্বিকাপুর,ডিক্রিচর এলাকার পাটচাষি মোতালেব মুন্সি, হারুন মাতুব্বরসহ কয়েকজন বলেন, বর্তমানে তারা পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজ করছেন। তবে মৌসুম শেষে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে সময়মতো পাট ক্রয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিলে পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন কৃষক। পাশাপাশি কৃষকরাও লাভের মুখ দেখবেন।
ফরিদপুর জেলার” কৃষক সমিতির সভাপতি মানিক মজুমদারের বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও কৃষকের লাভ নিশ্চিত করতে ন্যায্যমূল্য, সহজ বাজারজাতকরণ এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য সরকারি ভাবে উদ্যোগ নেওয়া খুবই জরুরি। এতে পাট উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে ফরিদপুরের ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে। বাড়বে সম্মান।
পাশাপাশি বাংলাদেশের মধ্যে পাট উৎপাদনের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুর অঞ্চলটি মাথা উচু করে দাঁড়াবে বিশ্ব দরবারে।

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সালথায় প্রস্তুতি সভা

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সালথায় প্রস্তুতি সভা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ফরিদপুরের সালথায় উপজেলা যুবদলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সালথা উপজেলা বাইপাস সড়ক-সংলগ্ন এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আশরাফের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব এনায়েত হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, মিরান হোসেন, মাহফুজুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম, খোকন মাতব্বর, মতিয়ার রহমান ও হাবিবুর রহমান হাবিব।
এ ছাড়া নবগঠিত কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ পারভেজ, মামুন হোসেন, তারিকুর রহমান সম্রাট, জুয়েল লস্কর, হায়দার আলী, রিপন মাতব্বর, শিমুল মিয়া, আখের আলী, নুরুল ইসলাম মাতুব্বর, রাজিব মোল্লা ও শাজাহান শরীফসহ উপজেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সভায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপন এবং কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সদরপুরে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ, দুই নারী গ্রেপ্তার

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ, দুই নারী গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের সদরপুরে এক মোবাইল ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে মারধর ও ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সদর ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার খাদিজাতুল কোবরা মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অঞ্জনা আক্তার (২৫) ও মালা আক্তার (১৯)।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইব্রাহীম খান (২৮) অভিযোগ করেন, পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০ অক্টোবর রাতে অঞ্জনার ডাকে ওই কক্ষে গেলে তাঁকে আটকে রাখা হয়। পরে অঞ্জনার স্বামী সুমনসহ আরও কয়েকজন সেখানে এসে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তিনি কৌশলে এক আত্মীয়কে বিষয়টি জানান।
ওই আত্মীয়ের মাধ্যমে খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে। এ সময় অঞ্জনার স্বামী সুমনসহ অন্যরা পালিয়ে গেলেও দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় ইব্রাহীম খান বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অঞ্জনা আক্তার, তাঁর স্বামী সুমন ও মালা আক্তারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই নারীকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

সম্প্রীতির বন্ধনে দুর্গোৎসব: আলফাডাঙ্গায় পূজামণ্ডপে দুই মেয়র প্রার্থী, দিলেন নগদ অর্থ সহায়তা

নয়ন শেখ, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
সম্প্রীতির বন্ধনে দুর্গোৎসব: আলফাডাঙ্গায় পূজামণ্ডপে দুই মেয়র প্রার্থী, দিলেন নগদ অর্থ সহায়তা

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিএনপির দুই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস ও হাসিবুল হাসান হাসিব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পূজামণ্ডপের আয়োজকদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন।
পরিদর্শনকারী দুই মেয়র প্রার্থী হলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস এবং আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাঁদের এ কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব বহন করছে।
পরিদর্শনকালে তাঁরা পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিবেশ ও পূজার আয়োজন ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের আয়োজক, কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তাঁরা শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান এবং উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দুর্গোৎসবকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন দুই মেয়র প্রার্থী। তাঁরা বলেন, ধর্মীয় উৎসব সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি করে। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
এ সময় বিভিন্ন পূজামণ্ডপের আয়োজকদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। এতে পূজার আয়োজন পরিচালনায় আয়োজকদের প্রতি সহযোগিতার মনোভাবের পাশাপাশি উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার বার্তা উঠে আসে।
দুই মেয়র প্রার্থীর এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ পূজামণ্ডপের আয়োজকরা উপস্থিত ছিলেন।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে তাঁদের এ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে।