ফরিদপুরে ৮৭ হাজার হেক্টরে পাটের আবাদ, ২ লাখ টন উৎপাদনের আশা কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ।
উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
ফরিদপুরে ৮৭ হাজার হেক্টরে পাটের আবাদ, ২ লাখ টন উৎপাদনের আশা করছেন তারা কিন্তু বর্ষা মৌসুমে জেলার ৯ উপজেলার কোথায় খালে পানি আছে আবার কোথাও পানি নেই। এর কারন হিসেবে সরেজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে দেখাগেছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী কতিয় পুলিশের লোক,কিছু দলীয় নেতাকর্মী আবার কেদথাও ধনবান আওয়ামীলীগ নেতা যাদের এখনও বিএনপি জামাই আদরে রাখছেন, তারা পরস্পরের যোগসাজশে ছোট খাল বিল ভরাট করে নিজেদের বাড়ী ঘর তৈরী করায় বহু খালের পানির প্রবাহ কমে গেছে।
আবার অনেক জায়গায় উচু ভুমি থাকার সেখানে অব্যাহত বর্ষনেও পানি আটকায়নি। ফলেও বৃষ্টির দিনে পানির অভাব দেখা দেওয়ায় বৃষ্টির মধ্যেই পাম্পকল কোথাও স্যালোমেশিনে পানি তুলে ধান ক্ষেতে পানি দিতে হচ্ছে। অপরদিকে পাতাল থেকে পানি তুলে পুকুর ভরে পাট পঁচানোর কাজ সারছেন কৃষকরা।
এতে করে কৃষককুল পাট পঁচানো খুবই চিন্তায় আছেন। কিন্ত দেখার যেমন কেউ নেই। বললে ব্যবস্হা নেওয়ারও কেই নেই। এরকম ঘটনা ফরিদপুর সদর থানা, মধুখালি, চরভদ্রাসন,সালথা এলাকায় এরকম ঘটনা দৃশ্যমান হয়ে আছে।
চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা, জাগ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কিন্তু পাট পঁচা নিয়ে বাঁধাও কম নয়।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার প্রায় দুই লাখ টন পাট উৎপাদনের আশা করছে ফরিদপুর কৃষি বিভাগ। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরদ।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এবার পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার টন। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ২ দশমিক ২৪ টন হবে বলে আশা করছেন, কৃষি বিভাগ।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ, অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামান বলেন, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
কৃষি বিভাগের এক জরিপে দেখাগেছে,
দেশের মোট পাট উৎপাদনে প্রায় ৩০ শতাংশ পাট হয় ফরিদপুরে জেলায়। এই অঞ্চলের পাট গুণে ও মানে বিখ্যাত বলে দাবি এই কৃষি কর্মকর্তার। তাই তো ইতিমধ্যেই ফরিদপুর জেলা প্রশাসন, ঘোষণা করছেন, “সোনালী আঁশে ভরপুর আমাদের ফরিদপুর”।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সেচের প্রয়োজন ছিল। সেইসঙ্গে সার, জ্বালানি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এ ছাড়া প্রতিবছর শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট চাষে লাভের পরিমাণও কমে যাচ্ছে।
সদর উপজেলার অম্বিকাপুর,ডিক্রিচর এলাকার পাটচাষি মোতালেব মুন্সি, হারুন মাতুব্বরসহ কয়েকজন বলেন, বর্তমানে তারা পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজ করছেন। তবে মৌসুম শেষে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে সময়মতো পাট ক্রয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিলে পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন কৃষক। পাশাপাশি কৃষকরাও লাভের মুখ দেখবেন।
ফরিদপুর জেলার” কৃষক সমিতির সভাপতি মানিক মজুমদারের বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও কৃষকের লাভ নিশ্চিত করতে ন্যায্যমূল্য, সহজ বাজারজাতকরণ এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য সরকারি ভাবে উদ্যোগ নেওয়া খুবই জরুরি। এতে পাট উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে ফরিদপুরের ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে। বাড়বে সম্মান।
পাশাপাশি বাংলাদেশের মধ্যে পাট উৎপাদনের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুর অঞ্চলটি মাথা উচু করে দাঁড়াবে বিশ্ব দরবারে।







