নগরকান্দায় নিজের জমি থাকার পরও ‘ভূমিহীন’ দেখিয়ে খাসজমি বন্দোবস্তের অভিযোগ
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণারডাঙ্গী গ্রামে নিজের বাড়ি ও জমি থাকার পরও ‘ভূমিহীন’ দেখিয়ে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দুবাইপ্রবাসীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, গজারিয়া বাজারসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত প্রায় আট শতাংশ সরকারি খাসজমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থের বিনিময়ে বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে। জমিটি কৃষ্ণারডাঙ্গী মৌজার ৫৮৮/৬০৯ নম্বর দাগের সামনে ১ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় জমির মালিক বাবলু শেখ, মর্জিনা, মুঞ্জিলা ও আর্জিনা অভিযোগ করেন, তাঁদের বাড়ি ও জমির সামনে থাকা সরকারি জায়গাটি বন্দোবস্ত দেওয়ার পর চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং পেছনের জমিতে যাতায়াতে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
তাঁদের দাবি, আক্তার খালাশি সচ্ছল এবং তাঁর নিজস্ব বাড়ি ও জমি রয়েছে। তাই তিনি কীভাবে ভূমিহীন হিসেবে খাসজমি বন্দোবস্ত পেলেন, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে বন্দোবস্তের আগে তাঁর ভূমিহীনতার বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
অর্থের বিনিময়ে জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আক্তার খালাশি বলেন, “জমিটি আমি অনেক আগে ভূমিহীন হিসেবে বন্দোবস্ত নিয়েছি।” নিজের বাড়ি ও জমি থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার বাড়ি ও জমি আছে, তাতে কী? বাজারের জায়গা আমি ভূমিহীন হিসেবে নিয়েছি। আমি প্রবাসে থাকি, এখন টাকা হয়েছে। আগে গরিব ছিলাম।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সেখানে কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁরা জমিটির সীমানা নির্ধারণ করে মাপজোখ এবং বন্দোবস্তের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নগরকান্দার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “কারও নামে নিজস্ব জায়গা থাকলে ভূমিহীন দেখিয়ে বন্দোবস্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাসজমিটি দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা চলাচলের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। তাই সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয়ের নথিপত্র যাচাই করে আক্তার খালাশিকে বন্দোবস্ত দেওয়ার সময় তাঁর ভূমিহীনতার বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হোক।





