সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

আজ বুধবার আখেরি চাহার সোম্বা: যে কারণে দিনটি গুরুত্বপূর্ণ

দৈনিক ফতেহাবাদ ডেস্ক: প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
আজ বুধবার আখেরি চাহার সোম্বা: যে কারণে দিনটি গুরুত্বপূর্ণ
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হচ্ছে আগামীকাল ১২ আগস্ট ২০২৬, বুধবার। এটি আরবি সনের ২৮ শে সফর মাসের শেষ বুধবার।
এই দিনে নবী করিম [ﷺ]-অসুস্থতা থেকে হঠাৎ জ্বর ছিল জ্বর কমে গেল, আসলে আমরা সামাজিকভাবে একটা কথা বলে ফেলি যে নবীজি অসুস্থ ছিলেন আসলে না। এটা তার শানে মানায় না। কারণ তিনি তো ইসলামের প্রাণ আমাদের ঈমান কুল কায়েনাতের রহমত ইত্যাদি তিনি যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে উপরের তাহলে সবকিছুই অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই তিনি অসুস্থ ছিলেন না তিনি উম্মতের ব্যথায় শোকাহত ছিলেন। উম্মতের গুনাহ মাফের জন্য,, আল্লাহ পাক যখন ফায়সালা দিল তখন
তিনি সকাল বেলা উঠেই হযরত আয়শা (رضي الله عنه)-কে ডেকে বললেন, আমার জ্বর কমে গেছে তুমি আমাকে গোসল করিয়ে দাও। সেমতে তাঁকে গোসল করানো হল। তিনি সুস্থ্য বোধ করলেন। এটাই ছিল দুনিয়ার শেষ গোসল। ইমাম হাসান, ইমাম হোসাইন ও বিবি ফাতিমা (رضي الله عنها) কে ডেকে আনা হলো। নাতিদ্বয়কে নিয়ে তিনি সকালের নাস্তা করেন। হযরত বেলাল (رضي الله عنه) সুফফাবাসীগণ বিদ্যুতের ন্যায় এ সংবাদ মদিনার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিলেন। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে আনন্দের ঢেউ খেলে গেল। তারা বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মত দলে দলে আসতে লাগলেন এবং হুযুর [ﷺ]-কে এক নজর দেখার জন্য উদগ্রিব হয়ে রইলেন।
হুযুরের রোগ মুক্তির সংবাদে সাহাবায়ে কেরাম কত খুশি ও আনন্দিত হয়েছিলেন তার কিছুটা আন্দাজ করা যায় পরের ঘটনার মাধ্যমে। হযরত আবু বকর (رضي الله عنه) পাঁচহাজার দিরহাম ফকির মিসকীনদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন। হযরত ওমর (رضي الله عنه) দান করলেন সাত হাজার দিরহাম। হযরত ওসমান (رضي الله عنه) দান করলেন ১০হাজার দিরহাম। হযরত আলী (رضي الله عنه) দান করলেন ৩হাজার দিরহাম। সবচেয়ে বেশী দান করলেন, ধনী ব্যবসায়ী হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (رضي الله عنه)- তিনি একশত উট আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিলেন। সুবহানআল্লাহ! নবী করিম [ﷺ]-এঁর একটু শান্তি ও আরামের সংবাদে সাহাবীগণ কীভাবে জান-মাল উৎসর্গ করে দিতেন এটা তারই আংশিক প্রমাণ। “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) প্রতি বৎসর ঈদে মিলাদুন্নবীর [ﷺ] দিনে একটি মূল্যবান লাল উট জবাই করে যেয়াফত দিতেন।
অপরদিকে —–
ফতোয়ায়ে রযভীয়া, আলা হযরত ইমাম আহমদ রযা খান রহ., খণ্ড ২২, পৃষ্ঠা ২৪০)।
তাসাওউফ ও মারেফতের পরিভাষায়: সুফি বুজুর্গ ও আধ্যাত্মিক সাধকগণের (আহলে কাশফ) দৃষ্টিকোণ থেকে সফর মাসের শেষ বুধবার হলো এমন একটি দিন, যে দিনে আসমান থেকে সারা বছরের ৩ লক্ষ ২০ হাজার আসমানি ও জমিনি বালা-মুসিবত অবতীর্ণ হয়। তাই সুফিদের পরিভাষায় এটি উৎসবের দিন নয়; বরং আল্লাহর গজব ও মুসিবত থেকে রক্ষাকল্পে তওবা, নফল নামাজ, সদকা ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমতের চাদরে আশ্রয় নেওয়ার দিন।
১. তাফসিরে রুহুল বয়ান: আয়াত, শানে নুযুল ও বিস্তৃত ব্যাখ্যাঃ
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুফাসসির আল্লামা ইসমাইল হাক্কী আল-বুরসবি (রহ.) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত ‘তাফসিরে রুহুল বয়ান’ গ্রন্থে পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটিকে একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক আলোচনার দুয়ারে উপস্থাপন করেছেন।
পবিত্র কুরআনের আয়াত:
إِنَّا أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِي يَوْمِ نَحْسٍ مُّسْتَمِرٍّ
(উচ্চারণ: ইন্না আরসালনা আলাইহিম রিহান সোরসোরান ফি ইয়াওমি নাহসিন মুস্তামির।)
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি তাদের ওপর এক নিরবচ্ছিন্ন অশুভ দিনে প্রচণ্ড হিমশীতল ও গর্জনকারী হাওয়া প্রেরণ করেছিলাম।” (সূরা আল-ক্বামার: ১৯)
তাফসিরে রুহুল বয়ানের আলোকে আমল ও ইবাদতের ফজিলত
ইমাম বুরসবি (রহ.)-এর এই তাফসির থেকে সফর মাসের শেষ বুধবারে আমল করার ৩টি মহিমান্বিত ফজিলত অর্জিত হয়:
১. গজবকে রহমতে রূপান্তর: যে দিনটি কাফের ও পাপাচারীদের জন্য গজবের, মুমিনরা সেই দিনে তওবা, নফল নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর খাস রহমতের চাদরে আশ্রয় লাভ করে।
২. সারা বছরের নিরাপত্তা: আরিফ বিল্লাহগণের কাশফ অনুযায়ী এই দিনে অবতীর্ণ ৩ লক্ষ ২০ হাজার আসমানি ও জমিনি বিপদ থেকে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সারা বছর হেফাজতে রাখেন।
৩. আল্লাহর অসন্তোষ প্রশমন: হাদিসের আলোকে আজাবের দিনে সদকা ও নফল ইবাদত করলে আল্লাহর অসন্তোষ প্রশমিত হয় এবং অপমৃত্যু প্রতিরোধ হয়।
এ_দিনের_আমলঃ-
এদিন সূর্যোদয়ের আগে গোসল করা উত্তম আমল।
*সূর্যোদয়ের পর দোহার/ চাশতের নামাজান্তে দুই রাকা’ত নফল নামাজ পড়া উত্তম। প্রতি রাকাআতে সুরা ফাতিহার পর ১১বার সুরা ইখলাস অথবা তা সম্ভব না হলে ৩ বা ১ বারও পড়তে পারেন।
সালামান্তে ৭০ বা ততোধিক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে নিম্নের দোয়াটি তিনবার পাঠ করা-
“আল্লাহুম্মা ছাররিফ আন্নী ছুআ হাযাল ইয়াওমা, ওয়া আছিমনী মিন ছুয়িহি, ওয়া নাযযিনি আম্মা আছাবা ফিহি, মিন নাহু ছাতিহি ওয়া কুরবাতিহি, বিফাদলিকা এয়া দাফিয়াশ শুরুরি, ওয়া এয়া মালিকান নুশুরি এয়া আর হামার রাহিমীন, ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলিহিল আমজাদি ওয়া বারাকা ওয়াসাল্লাম”।
*এ দিনে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতে সালাম পড়ে হাতে ফু দিয়ে সারা শরীর মাসেহ করবেন।
বেশি বেশি নফল ইবাদত, দরূদ শরীফ পাঠ, দান সদকা করা, গরীবদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা যায়।
আল্লাহ তা’য়ালা আমরা সবাই কে আমল করার তৌফিক দান করুন আমীন।

ফরিদপুর সদরের চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর খাড়াপাড়া জামে মসজিদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ রতন ফকির মারা গেছেন

এম এইচ সুজন মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর সদরের চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর খাড়াপাড়া জামে মসজিদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ রতন ফকির মারা গেছেন

অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, ফরিদপুর সদরের ১২ নং চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর খাড়াপাড়া মসজিদ সংলগ্ন ফকির বাড়ির শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি অত্র মসজিদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ধোপাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আকরাম মাস্টারের পিতা মোঃ রতন ফকির আজ ৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার, সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন।
(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র, ৫ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আগামীকাল সকাল ১০ ঘটিকায় তাঁর জানাজার নামাজ শেষে তাঁকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

চরভদ্রাসনে ১৭ বছর পর দখলমুক্ত হলো অসহায় পরিবারের জমি

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে ১৭ বছর পর দখলমুক্ত হলো অসহায় পরিবারের জমি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দখলে থাকা পৈত্রিক ১১ শতাংশ জমি উদ্ধারের দাবি করেছেন আক্কাস আলী খান (৫০) নামে এক ব্যক্তি। গত ১ সেপ্টেম্বর জমিটি দখলমুক্ত করে সেখানে বসতভিটা নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি।
আক্কাস আলী খানের দাবি, ১৯৭২ সালে তার বাবা উসমান গণি খান ও চাচা জালাল উদ্দিন খান ৯৫৭৭ নম্বর দলিলমূলে ২২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এসএ ও দিয়ারা মিউটেশনের মাধ্যমে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন তারা। এর মধ্যে ১১ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন নান্নু মুন্সি (৪০) ও তার লোকজন দখলে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ।
আক্কাসের দাবি, নান্নু মুন্সির দেখানো দলিলে থাকা দাগের সঙ্গে তাদের ক্রয়কৃত জমির দাগের কোনো মিল নেই। সম্প্রতি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দলিলপত্র বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই করে তারা জমিটি নিজেদের দখলে নেন।
এদিকে জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে নান্নু মুন্সি চরভদ্রাসন থানায় অভিযোগ করেছেন। থানার এসআই আব্দুল করিম জানান, উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে বসতে বলা হলেও বাদী পক্ষ এখনও বসেনি।
নান্নু মুন্সি দাবি করেন, শহিদুল ইসলাম মোল্যা ও শাহাদাত মৃধা জমিটি কেনার কথা বলে পরে সরে যাওয়ায় তাদের নামসহ থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে শহিদুল ও শাহাদাতের দাবি, কাগজপত্র যাচাই করে জমিটি নান্নু মুন্সিদের নয় বলে তারা কেনেননি।
জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।চাইলে এর জন্য আরও চমকপ্রদ ৫টি শিরোনামও দিতে পারি।

মাদক মামলায় রাজুর ৬ মাসের কারাদণ্ড

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
মাদক মামলায় রাজুর ৬ মাসের কারাদণ্ড

আলফাডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে রাজু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শেষে রাজুকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
​শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানূর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু মোল্লা উপজেলার ধুলজুড়ী গ্রামের পিয়ার মোল্লা ও চায়না বেগম দম্পতির ছেলে।
​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজু মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর ফলে স্থানীয় যুবসমাজ ও তাঁর নিজের পরিবার চরম ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাঁকে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
​মাদকের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল আমিন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।