ফরিদপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভেকু দিয়ে উচ্ছেদ: তোপের মুখে বাজার কমিটিকে তিন দিনের আল্টিমেটাম

ফরিদপুর শহরকে যানজটমুক্ত এবং পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণে বড় ধরনের চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ফরিদপুর পৌরসভা। গত ১০ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান আজ ১১ আগস্ট আরও জোরদার করা হয়। তবে অভিযানের দ্বিতীয় দিনে এসে বেশ কিছু স্থানে তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

দুই দিনব্যাপী এই বিশেষ অভিযানে শহরের যানজটপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
জনতা ব্যাংকের মোড়,নিউ মার্কেটের সামনে,
চকবাজার ও থানা রোড,মহাকালী পাঠশালার মোড় ,বলাকা সুপার মার্কেটের সামনে,ময়রা পট্টি ও আশপাশের সড়ক।
উচ্ছেদকারী দল এসব এলাকার ফুটপাত ও মূল সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা সব ধরনের অস্থায়ী দোকান, অবৈধ শেড ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করে।

ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি এর নেতৃত্বে এই বিশাল অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) সৈয়দ মোহাম্মদ আশরাফ, পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান, উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শরিফুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) লাইজিং হোসেন রাজু এবং সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমানসহ পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
অভিযানের একপর্যায়ে উচ্ছেদকারী দল দীর্ঘদিনের অবৈধ টিনশেড স্থাপনাগুলো ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ভাঙতে গেলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ফুটপাত দখল করে রাখা এসব অবৈধ স্থাপনাকারীদের তীব্র তোপের মুখে পড়েন ফরিদপুর পৌরসভার কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে বাধার মুখে পৌর কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাজার কমিটির সাথে জরুরি পর্যালোচনায় বসে। দীর্ঘ আলোচনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাকি অবৈধ স্থাপনাগুলো আগামী তিন দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেয় ফরিদপুর পৌরসভা। পৌর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্ধারিত সময়ের পর কোনো অবৈধ স্থাপনা পাওয়া গেলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পৌরসভার এই সাহসী ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ ফরিদপুর পৌরবাসী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। ফুটপাত চলে গিয়েছিল দোকানপাটের দখলে, যার ফলে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হতো পথচারীদের। পৌরবাসীর দাবি, এই উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ অভিযান যেন নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে অব্যাহত থাকে ,তবেই ফরিদপুর পৌরবাসীসহ সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে আর কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না এবং শহরটি একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শান্তিনগরে পরিণত হবে।





