মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পদ্মায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, গোপালপুর-মৈনট ঘাট ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

চরভদ্রাসন প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পদ্মায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, গোপালপুর-মৈনট ঘাট ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর গোপালপুর-মৈনট নৌরুটে চরম ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার চলছে। প্রতিদিন এ রুট দিয়ে ঢাকাগামী হাজার হাজার যাত্রী স্পিডবোট ও লঞ্চে পদ্মা নদী পার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না ন্যূনতম নিরাপত্তার ব্যবস্থা। বিশেষ করে স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ঘাটে খাস আদায় চলাকালে ও নদীতে দুর্ঘটনার কারণে স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান বাধ্যতামূলক ছিল। তবে চলতি বছর ঘাট ইজারা দেওয়ার পর সেই নিয়ম কার্যত আর মানা হচ্ছে না। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাত্রীদের পদ্মা নদী পারাপার করতে হচ্ছে।

বুধবার সরেজমিনে গোপালপুর ও মৈনট ঘাট ঘুরে দেখা যায়, শ্রাবণের উত্তাল ঢেউ, বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও খোলা স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ১৪ জন ধারণক্ষমতার একটি স্পিডবোটে ১৯ জন পর্যন্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। এছাড়া আগে যেখানে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা, বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ১৮০ টাকা।

একই নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতেও পর্যাপ্ত লাইফ বয়া নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্ধঘণ্টা পরপর শত শত যাত্রী এসব লঞ্চে পারাপার হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঘাটের ইজারাদার বাবুল শিকদার এ বিষয়ে বলেন, “প্রতিটি স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট রয়েছে। যাত্রীরা চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। তারা না চাইলে আমাদের করার কিছু নেই।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বদলিজনিত কারণে তিনি মুঠোফোনে সাড়া দেননি।

গোপালপুর-মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, “২০২২ সালে আমরা ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে ঘাটের ইজারা নিয়েছিলাম। কিন্তু চলতি বছর ঢাকার কমিশনার কার্যালয় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই এবং সর্বোচ্চ দরদাতাদের না জানিয়ে রহস্যজনকভাবে মাত্র ৭০ লাখ টাকায় স্থানীয় কয়েকজনের কাছে ঘাটটি ইজারা দিয়েছে। বিষয়টি স্বচ্ছ ও বৈধ পদ্ধতিতে হয়নি বলে আমরা মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী চাপ কিছুটা কমে গেলেও বর্তমানে আবার এ নৌরুটে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। অথচ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে।

ঘাটের যাত্রী আরমান শেখ (৪৫) বলেন, “স্পিডবোটে ওঠার পর আমরা বারবার লাইফ জ্যাকেট চেয়েছি। কিন্তু চালক আমাদের কথায় গুরুত্ব দেননি।”

অন্যদিকে স্পিডবোট চালক হারুন মোল্যা বলেন, “লাইফ জ্যাকেট স্পিডবোটের ড্রয়ারে রাখা আছে। প্রয়োজন হলে বের করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাটে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ এবং ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে চরভদ্রাসনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে চরভদ্রাসনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি চরভদ্রাসন বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফর আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডঃ হাফিজুর রহমান,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ তালুকদার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত আজিজুর রহমান, এটিও মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জি এম বাদল আমিন, শিক্ষক আব্দুল কাদের মাস্টার, উপজেলা যুবদল সভাপতি মোজাফফর হোসেন জাফরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। একটি শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সাক্ষরতা ও শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য শিক্ষার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।

ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশনের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন সিনিয়র সহ-সভাপতি যুবদল নেতা কে এম জাফর

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশনের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন সিনিয়র সহ-সভাপতি যুবদল নেতা কে এম জাফর

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কে এম জাফর গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশনের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তার আকস্মিক অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা যুবদলের নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়। প্রিয় নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে ও তার পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন।
এদিকে কে এম জাফরের দ্রুত সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। স্বজন ও সহকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, সবার ভালোবাসা ও দোয়ায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসবেন।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা, সম্পাদক হাফিজুর রহমান মিঞ্জা

আবু সাঈম খান, স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা, সম্পাদক হাফিজুর রহমান মিঞ্জা

বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ফরিদপুর জেলা শাখার ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সর্বসম্মতিক্রমে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান মিঞ্জাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়।
নবগঠিত এই কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রফেসর মোঃ বিলাল হোসেন এবং প্রফেসর মোঃ মতিউর রহমান। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য পদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ কবিরুল আলম এবং কোষাধ্যক্ষ পদে নাজিম উদ্দিন আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটিতে অন্যান্য সদস্যরা হলেন— অধ্যাপক এম এ সামাদ, প্রফেসর আব্দুল আজিজ, প্রফেসর আব্দুল বাতেন মিয়া, প্রফেসর তারিক হোসেন খান, প্রফেসর মোঃ সুলতান মাহমুদ, প্রফেসর মোঃ সিরাজুল ইসলাম, গাজী মোকছেদুর রহমান, মোঃ ইউনুস মিয়া, সবিতা রানী আচার্য্য এবং মো: ছরওয়ার হোসেন।
নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ ফরিদপুর জেলায় বসবাসরত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কল্যাণ, অধিকার রক্ষা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নতুন এই কার্যনির্বাহী পরিষদের হাত ধরে সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ সদস্যরা।