সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

সয়াবিন না সরিষার তেল: প্রতিদিনের রান্নায় কোনটি সেরা?

দৈনিক ফতেহাবাদ ডেস্ক: প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
সয়াবিন না সরিষার তেল: প্রতিদিনের রান্নায় কোনটি সেরা?
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বাঙালি রান্নাঘরে ভোজ্য তেল ছাড়া একদিনও কল্পনা করা যায় না। তবে দীর্ঘকাল ধরে সয়াবিন তেলের একচেটিয়া আধিপত্যের পর, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে সরিষার তেলের জনপ্রিয়তা আবার বাড়ছে। স্বাস্থ্য ও পুষ্টিগুণের বৈজ্ঞানিক তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দুই তেলের চর্বি ও পুষ্টির গঠনে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ফারাক।
তেলের চর্বি বা ফ্যাটের তুলনামূলক চিত্র
ভোজ্য তেলের গুণাগুণ মূলত নির্ভর করে তাতে থাকা তিন ধরনের ফ্যাটের ওপর—মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (ভালো চর্বি), পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট (ক্ষতিকর চর্বি)।

বৈশিষ্ট্যের তুলনা

সরিষার তেল

সয়াবিন তেল

স্যাচুরেটেড ফ্যাট

প্রায় ১২% (কম ক্ষতিকর)

প্রায় ১৬% (বেশি চর্বি)

মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট

অনেক বেশি (হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো)

মাঝারি

প্রস্তুত প্রণালী

ঘানি ভাঙা বা কোল্ড প্রেসড (প্রাকৃতিক)

রিফাইনিং ও কেমিক্যাল প্রসেসিং

স্মোক পয়েন্ট

উচ্চ (২৫০° সেলসিয়াস)

খুব উচ্চ (২৩০°-২৫৭° সেলসিয়াস)

ক্যালরি

প্রতি গ্রামে ৯ ক্যালরি

প্রতি গ্রামে ৯ ক্যালরি

সরিষার তেলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: সরিষার তেলে ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম এবং মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
ক্যানসার প্রতিরোধক: পুষ্টিবিদদের মতে, সরিষার তেলে থাকা ‘অ্যালাইল আইসোথায়োসায়ানেট’ নামক যৌগ ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি দমনে এবং ফুসফুস, পাকস্থলী ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
প্রাকৃতিক ও রাসায়নিকমুক্ত: কাঠের ঘানি বা কাচ্চি ঘানি থেকে পাওয়া সরিষার তেল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। ফলে এতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান যুক্ত হয় না।
ভিটামিনের আধিক্য: এতে সয়াবিনের চেয়ে থায়ামিন, রাইবোফ্ল্যাভিন, নিয়াসিন এবং ফোলেটের মতো বি-ভিটামিন বেশি পরিমাণে থাকে।
সয়াবিন তেলের পুষ্টিগুণ ও সীমাবদ্ধতা
ভিটামিন ও ওমেগা-৩: সয়াবিন তেলে রয়েছে পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ ও ভিটামিন ‘ই’। এটি ত্বক ও চোখের সুরক্ষায় কাজ করে।
উচ্চ স্মোক পয়েন্ট: সয়াবিন তেলের স্মোক পয়েন্ট বেশি হওয়ায় এটি গভীর ভাজাভুজি বা উচ্চ তাপে রান্নার জন্য উপযোগী।
প্রসেসিংয়ের ক্ষতিকর দিক: সয়াবিন তেল বীজ থেকে বের করার পর সেটিকে রিফাইন বা পরিশোধনের জন্য বিভিন্ন কেমিক্যাল প্রসেসিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। উচ্চ তাপে দীর্ঘক্ষণ সয়াবিন তেল গরম করলে এর গুণগত মান দ্রুত নষ্ট হতে পারে।
ওমেগা-৬ এর আধিক্য: সয়াবিন তেলে অতিরিক্ত মাত্রায় ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। ওমেগা-৩ এর তুলনায় ওমেগা-৬ অতিরিক্ত গ্রহণ করলে শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশনের ঝুঁকি বাড়ে।
চূড়ান্ত রায়: স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেছে নেবেন?
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ক্যালরির দিক থেকে দুটি তেলই সমান। তবে গুণগত মান ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দিক থেকে বিবেচনা করলে খাঁটি ঘানি ভাঙা সরিষার তেলই শরীরের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও বেশি স্বাস্থ্যকর। সয়াবিন তেলের কেমিক্যাল রিফাইনিং পদ্ধতির কারণে এটি দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ বা গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে রান্নায় বৈচিত্র্য আনতে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় সব ফ্যাটি অ্যাসিডের ব্যালেন্স ঠিক রাখতে পুষ্টিবিদরা মাঝেমধ্যে তেল বদলে (যেমন—কিছু রান্নায় সরিষা এবং কিছু রান্নায় পরিমিত সয়াবিন) ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

ফরিদপুর সদরের চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর খাড়াপাড়া জামে মসজিদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ রতন ফকির মারা গেছেন

এম এইচ সুজন মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর সদরের চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর খাড়াপাড়া জামে মসজিদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ রতন ফকির মারা গেছেন

অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, ফরিদপুর সদরের ১২ নং চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর খাড়াপাড়া মসজিদ সংলগ্ন ফকির বাড়ির শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি অত্র মসজিদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ধোপাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আকরাম মাস্টারের পিতা মোঃ রতন ফকির আজ ৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার, সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন।
(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র, ৫ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আগামীকাল সকাল ১০ ঘটিকায় তাঁর জানাজার নামাজ শেষে তাঁকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

চরভদ্রাসনে ১৭ বছর পর দখলমুক্ত হলো অসহায় পরিবারের জমি

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে ১৭ বছর পর দখলমুক্ত হলো অসহায় পরিবারের জমি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দখলে থাকা পৈত্রিক ১১ শতাংশ জমি উদ্ধারের দাবি করেছেন আক্কাস আলী খান (৫০) নামে এক ব্যক্তি। গত ১ সেপ্টেম্বর জমিটি দখলমুক্ত করে সেখানে বসতভিটা নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি।
আক্কাস আলী খানের দাবি, ১৯৭২ সালে তার বাবা উসমান গণি খান ও চাচা জালাল উদ্দিন খান ৯৫৭৭ নম্বর দলিলমূলে ২২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এসএ ও দিয়ারা মিউটেশনের মাধ্যমে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন তারা। এর মধ্যে ১১ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন নান্নু মুন্সি (৪০) ও তার লোকজন দখলে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ।
আক্কাসের দাবি, নান্নু মুন্সির দেখানো দলিলে থাকা দাগের সঙ্গে তাদের ক্রয়কৃত জমির দাগের কোনো মিল নেই। সম্প্রতি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দলিলপত্র বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই করে তারা জমিটি নিজেদের দখলে নেন।
এদিকে জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে নান্নু মুন্সি চরভদ্রাসন থানায় অভিযোগ করেছেন। থানার এসআই আব্দুল করিম জানান, উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে বসতে বলা হলেও বাদী পক্ষ এখনও বসেনি।
নান্নু মুন্সি দাবি করেন, শহিদুল ইসলাম মোল্যা ও শাহাদাত মৃধা জমিটি কেনার কথা বলে পরে সরে যাওয়ায় তাদের নামসহ থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে শহিদুল ও শাহাদাতের দাবি, কাগজপত্র যাচাই করে জমিটি নান্নু মুন্সিদের নয় বলে তারা কেনেননি।
জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।চাইলে এর জন্য আরও চমকপ্রদ ৫টি শিরোনামও দিতে পারি।

মাদক মামলায় রাজুর ৬ মাসের কারাদণ্ড

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
মাদক মামলায় রাজুর ৬ মাসের কারাদণ্ড

আলফাডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে রাজু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শেষে রাজুকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
​শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানূর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু মোল্লা উপজেলার ধুলজুড়ী গ্রামের পিয়ার মোল্লা ও চায়না বেগম দম্পতির ছেলে।
​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজু মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর ফলে স্থানীয় যুবসমাজ ও তাঁর নিজের পরিবার চরম ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাঁকে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
​মাদকের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল আমিন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।