সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

ফরিদপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভেকু দিয়ে উচ্ছেদ: তোপের মুখে বাজার কমিটিকে তিন দিনের আল্টিমেটাম

আবু সাঈম খান, স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভেকু দিয়ে উচ্ছেদ: তোপের মুখে বাজার কমিটিকে তিন দিনের আল্টিমেটাম
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ফরিদপুর শহরকে যানজটমুক্ত এবং পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণে বড় ধরনের চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ফরিদপুর পৌরসভা। গত ১০ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান আজ ১১ আগস্ট আরও জোরদার করা হয়। তবে অভিযানের দ্বিতীয় দিনে এসে বেশ কিছু স্থানে তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।


দুই দিনব্যাপী এই বিশেষ অভিযানে শহরের যানজটপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
জনতা ব্যাংকের মোড়,নিউ মার্কেটের সামনে,
চকবাজার ও থানা রোড,মহাকালী পাঠশালার মোড় ,বলাকা সুপার মার্কেটের সামনে,ময়রা পট্টি ও আশপাশের সড়ক।
উচ্ছেদকারী দল এসব এলাকার ফুটপাত ও মূল সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা সব ধরনের অস্থায়ী দোকান, অবৈধ শেড ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করে।


ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি এর নেতৃত্বে এই বিশাল অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) সৈয়দ মোহাম্মদ আশরাফ, পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান, উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শরিফুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) লাইজিং হোসেন রাজু এবং সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমানসহ পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
অভিযানের একপর্যায়ে উচ্ছেদকারী দল দীর্ঘদিনের অবৈধ টিনশেড স্থাপনাগুলো ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ভাঙতে গেলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ফুটপাত দখল করে রাখা এসব অবৈধ স্থাপনাকারীদের তীব্র তোপের মুখে পড়েন ফরিদপুর পৌরসভার কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে বাধার মুখে পৌর কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাজার কমিটির সাথে জরুরি পর্যালোচনায় বসে। দীর্ঘ আলোচনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাকি অবৈধ স্থাপনাগুলো আগামী তিন দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেয় ফরিদপুর পৌরসভা। পৌর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্ধারিত সময়ের পর কোনো অবৈধ স্থাপনা পাওয়া গেলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পৌরসভার এই সাহসী ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ ফরিদপুর পৌরবাসী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। ফুটপাত চলে গিয়েছিল দোকানপাটের দখলে, যার ফলে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হতো পথচারীদের। পৌরবাসীর দাবি, এই উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ অভিযান যেন নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে অব্যাহত থাকে ,তবেই ফরিদপুর পৌরবাসীসহ সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে আর কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না এবং শহরটি একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শান্তিনগরে পরিণত হবে।

ফরিদপুর সদরের চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর খাড়াপাড়া জামে মসজিদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ রতন ফকির মারা গেছেন

এম এইচ সুজন মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর সদরের চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর খাড়াপাড়া জামে মসজিদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ রতন ফকির মারা গেছেন

অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, ফরিদপুর সদরের ১২ নং চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর খাড়াপাড়া মসজিদ সংলগ্ন ফকির বাড়ির শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি অত্র মসজিদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ধোপাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আকরাম মাস্টারের পিতা মোঃ রতন ফকির আজ ৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার, সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন।
(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র, ৫ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আগামীকাল সকাল ১০ ঘটিকায় তাঁর জানাজার নামাজ শেষে তাঁকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

চরভদ্রাসনে ১৭ বছর পর দখলমুক্ত হলো অসহায় পরিবারের জমি

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে ১৭ বছর পর দখলমুক্ত হলো অসহায় পরিবারের জমি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দখলে থাকা পৈত্রিক ১১ শতাংশ জমি উদ্ধারের দাবি করেছেন আক্কাস আলী খান (৫০) নামে এক ব্যক্তি। গত ১ সেপ্টেম্বর জমিটি দখলমুক্ত করে সেখানে বসতভিটা নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি।
আক্কাস আলী খানের দাবি, ১৯৭২ সালে তার বাবা উসমান গণি খান ও চাচা জালাল উদ্দিন খান ৯৫৭৭ নম্বর দলিলমূলে ২২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এসএ ও দিয়ারা মিউটেশনের মাধ্যমে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন তারা। এর মধ্যে ১১ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন নান্নু মুন্সি (৪০) ও তার লোকজন দখলে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ।
আক্কাসের দাবি, নান্নু মুন্সির দেখানো দলিলে থাকা দাগের সঙ্গে তাদের ক্রয়কৃত জমির দাগের কোনো মিল নেই। সম্প্রতি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দলিলপত্র বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই করে তারা জমিটি নিজেদের দখলে নেন।
এদিকে জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে নান্নু মুন্সি চরভদ্রাসন থানায় অভিযোগ করেছেন। থানার এসআই আব্দুল করিম জানান, উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে বসতে বলা হলেও বাদী পক্ষ এখনও বসেনি।
নান্নু মুন্সি দাবি করেন, শহিদুল ইসলাম মোল্যা ও শাহাদাত মৃধা জমিটি কেনার কথা বলে পরে সরে যাওয়ায় তাদের নামসহ থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে শহিদুল ও শাহাদাতের দাবি, কাগজপত্র যাচাই করে জমিটি নান্নু মুন্সিদের নয় বলে তারা কেনেননি।
জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।চাইলে এর জন্য আরও চমকপ্রদ ৫টি শিরোনামও দিতে পারি।

মাদক মামলায় রাজুর ৬ মাসের কারাদণ্ড

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
মাদক মামলায় রাজুর ৬ মাসের কারাদণ্ড

আলফাডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে রাজু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শেষে রাজুকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
​শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানূর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু মোল্লা উপজেলার ধুলজুড়ী গ্রামের পিয়ার মোল্লা ও চায়না বেগম দম্পতির ছেলে।
​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজু মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর ফলে স্থানীয় যুবসমাজ ও তাঁর নিজের পরিবার চরম ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাঁকে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
​মাদকের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল আমিন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।