সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

খালি পেটে নাকি ভরা পেটে: ব্যায়ামের আসল নিয়ম কী?

আবু সাঈম খান, স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৯ অপরাহ্ণ
খালি পেটে নাকি ভরা পেটে: ব্যায়ামের আসল নিয়ম কী?
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

সুস্থ ও ফিট থাকার জন্য নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। তবে ব্যায়াম শুরু করার আগে একটি প্রশ্ন প্রায় সবার মনেই ঘুরপাক খায়—ব্যায়াম কি খালি পেটে করা উচিত, নাকি কিছু খেয়ে বা ভরা পেটে? চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি অভ্যাসেরই নিজস্ব ভালো এবং মন্দ দিক রয়েছে। তবে না জেনে ভুল পদ্ধতিতে ব্যায়াম করলে শরীরে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। 
চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক ব্যায়াম করার আসল ও বিজ্ঞানসম্মত নিয়মাবলী।
খালি পেটে ব্যায়াম: চর্বি কমে, তবে রয়েছে ঝুঁকি
অনেকেরই ধারণা, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ব্যায়াম (Fasted Cardio) করলে দ্রুত ওজন ও চর্বি কমে। চিকিৎসকরা জানান, খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীর শক্তির জন্য কার্বোহাইড্রেটের বদলে সরাসরি জমে থাকা চর্বি বা ফ্যাট ব্যবহার করে। ফলে স্বল্প সময়ের জন্য ফ্যাট বার্ন বা অক্সিডেশন বেশি হয়। 

ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
রক্তে শর্করার ঘাটতি:
 দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার পর ভারী ব্যায়াম করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার দ্রুত কমে যেতে পারে। এতে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, শরীর অবসাদগ্রস্ত হওয়া বা হঠাৎ জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। 

পেশির ক্ষতি:
খালি পেটে দীর্ঘ সময় উচ্চ তীব্রতার (High-intensity) ব্যায়াম করলে শরীর শক্তির জন্য চর্বির পাশাপাশি পেশির প্রোটিন ভাঙতে শুরু করে, যা পেশি গঠনের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। 
বিশেষ সতর্কতা:
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসারের রোগীদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খালি পেটে ভারী ব্যায়াম করা একেবারেই নিরাপদ নয়। 
ভরা পেটে ব্যায়াম: ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
খালি পেটে ব্যায়াম করার যেমন কিছু নিয়ম আছে, তেমনি ভরা পেটে অর্থাৎ ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই ব্যায়াম করা সম্পূর্ণ নিষেধ। খাবার খাওয়ার পর আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা পাকস্থলী খাবার হজম করার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই সময় শরীরে রক্ত সঞ্চালন মূলত পাকস্থলীর দিকে ধাবিত হয়। 

ভরা পেটে ব্যায়াম শুরু করলে পেশি এবং পাকস্থলীর মধ্যে রক্ত সঞ্চালনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যা স্বাভাবিক হজমপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
এর ফলে মারাত্মক পেট ব্যথা, ক্র্যাম্প, বমি বা বুক ধড়ফড় করার মতো সমস্যা হতে পারে।
ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ও শ্বাস-প্রশ্বাসেও এটি চাপ সৃষ্টি করে। 

ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়াম করার আসল নিয়ম হলো “খালি পেটও নয়, আবার ভরা পেটও নয়”। শরীর চর্চাকে ফলপ্রসূ করতে নিচের সময়সূচি ও নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত:
১.
 ভারী খাবারের পর বিরতি: আপনি যদি ভাত, রুটি বা ভারী কোনো খাবার (Heavy Meal) খেয়ে থাকেন, তবে তার অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর ব্যায়াম করুন।
২. হালকা প্রি-workout স্ন্যাক্স: ব্যায়াম করার ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে হালকা কিছু খাবার (যেমন: একটি কলা, ওটস, এক মুঠো বাদাম বা টোস্ট বিস্কুট) খাওয়া সবচেয়ে উত্তম। এটি ব্যায়াম করার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত এনার্জি বা গ্লুকোজ সরবরাহ করবে এবং পেশির ক্লান্তি কমাবে।
৩. ব্যায়ামের ধরন বুঝে সিদ্ধান্ত: আপনি যদি কেবল হালকা হাঁটাচলা বা ইয়োগা করতে চান, তবে খালি পেটে বা হালকা পেটে করা সম্ভব। কিন্তু ভারী ওয়েট লিফ্টিং, দৌড়ানো বা হাই-ইনটেনসিটি ওয়ার্কআউটের ক্ষেত্রে অবশ্যই শরীরে পর্যাপ্ত ফুয়েল বা শক্তির প্রয়োজন।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান: খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। তাই ব্যায়াম শুরু করার ২০-২৫ মিনিট আগে এবং ব্যায়ামের মাঝে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা জরুরি। 

ব্যায়াম শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য, অসুস্থ করার জন্য নয়। তাই নিজের শরীরের কন্ডিশন এবং লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে সঠিক সময়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে শরীর চর্চা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ট্রেইনার বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আপনার ওয়ার্কআউট চার্ট তৈরি করুন। 

ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ দোকান, ক্ষয়ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ দোকান, ক্ষয়ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা

ফরিদপুরের সালথায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানগুলো বন্ধ থাকা অবস্থায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমে একটি দোকানের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা বাজারের মসজিদের মাইকে আগুন লাগার খবর প্রচার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই আগুনে তিনটি দোকানের মালামাল পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সার ও কীটনাশকের দোকান, একটি হার্ডওয়্যারের দোকান এবং একটি রাইস মিল।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনে দোকানগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সালথা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল জলিল বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

ফরিদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

জাকির হোসেন ,সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

ফরিদপুরের সালথায় পারিবারিক কলহের জেরে চাঁদনী আক্তার (২৫) নামে দুই সন্তানের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত চাঁদনী আক্তার রাঙ্গাদিয়া গ্রামের সুমন সরদারের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন চাঁদনী আক্তার। পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে।
এ বিষয়ে সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খাঁন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট: প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অগ্রযাত্রায় যুক্ত থাকা জাতীয় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মরহুম অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, “সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের কোনো বাধা-বিপত্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে না। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সংবাদ উপস্থাপনা করতে পারছেন।” ফরিদপুরের সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ফরিদপুরে আপনারা সকলেই স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে পারছেন এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা দৈনিক কালবেলা পত্রিকার বিগত দিনগুলোর সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সরকারের ইতিবাচক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে নির্ভীক ও অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বক্তারা দৈনিক কালবেলা পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক পান্না বালা, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনাল, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরিজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ একসঙ্গে কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় ।