সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

শীতের আমেজে দেশজুড়ে পিঠার উৎসব: ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘চিতই ও সাতপুতি’ পিঠার রাজত্ব

আবু সাঈম খান, স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
শীতের আমেজে দেশজুড়ে পিঠার উৎসব: ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘চিতই ও সাতপুতি’ পিঠার রাজত্ব
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুয়াশা জড়ানো সকাল আর হিমেল হাওয়ার স্পর্শে বাংলাদেশে আগমন ঘটে শীতের। আর শীতের এই আগমনী বার্তার সাথে সাথেই দেশজুড়ে শুরু হয় বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ—ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। নতুন ধানের চালের গুঁড়ো, খেঁজুরের গুড় আর নারকেলের সুবাসে মুখরিত হয় দেশের প্রতিটি জেলা। তবে জেলাভেদে পিঠার বৈচিত্র্য ও স্বাদে রয়েছে দারুণ ভিন্নতা।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতকালে হরেক রকমের পিঠার আয়োজন করা হয় । ঢাকার বেইলি রোড থেকে শুরু করে মফস্বলের অলিতে-গলিতে ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা এবং চিতই পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে জনপ্রিয় পিঠার তালিকায় রয়েছে:
পাটিসাপটা: ক্ষীর বা নারকেলের পুর দিয়ে তৈরি পাতলা ক্র্যাপ রোল।
পুলি পিঠা (দুধপুলি/ভাজাপুলি): ভেতরে মিষ্টি নারকেলের পুর দিয়ে তৈরি নকশাদার পিঠা।
অন্যান্য: পাকন পিঠা, মেরা পিঠা, নকশি পিঠা এবং আন্দশা পিঠা ।

ফরিদপুরের পিঠার সংস্কৃতি: অনন্য ও ঐতিহ্যবাহী
পদ্মা বিধৌত ফরিদপুর জেলা পিঠা এবং খেজুর গুড়ের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত । শীতের মওসুমে ফরিদপুরের প্রতিটি ঘরে ঘরে উৎসবমুখর পরিবেশে পিঠা বানানোর তোড়জোড় শুরু হয়। ফরিদপুর অঞ্চলে শীতকালে মূলত দুধ চিতই, ক্ষীর পুলি, সেমাই বা শেওই পিঠা এবং পাটিসাপটা পিঠার বিশেষ আয়োজন লক্ষ্য করা যায় । এছাড়াও মেহমান আপ্যায়নে এ অঞ্চলের নারীরা তৈরি করেন চমৎকার নকশাদার ঝিনুক পিঠা বা চিরুনি পিঠা ।
ফরিদপুরের বিখ্যাত পিঠা: মাটির চুলার ‘চিতই’ ও ঐতিহ্যবাহী ‘সাতপুতি’
ফরিদপুরে শীতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত পিঠা হলো চিতই পিঠা (স্থানীয় ভাষায় অনেকে চিতাই বলে থাকেন)। তবে এখানকার চিতই পিঠা খাওয়ার ধরনটি অনন্য। শীতের রাতে মাটির চুলায় গরম গরম চিতই পিঠা তৈরি করে তা দেশি হাঁসের মাংসের ঝাল ঝাল কষা কারি অথবা ঐতিহ্যবাহী সরিষা ও শুঁটকি ভর্তা দিয়ে খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।
পাশাপাশি, ফরিদপুরের গ্রামীণ জনপদের আরেকটি দারুণ ঐতিহ্যবাহী ও লুপ্তপ্রায় বিখ্যাত পিঠা হলো ‘সাতপুতি পিঠা’। মাটির হাঁড়িতে বিশেষ কায়দায় বাষ্প দিয়ে তৈরি এই পিঠাটির স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো । এছাড়া শীতের সকালে ফরিদপুরের খাঁটি খেজুরের রসে ভেজানো দুধ চিতই এ অঞ্চলের মানুষের পরম তৃপ্তির একটি খাবার।
শীতের এই ঋতুতে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ নিতে শহরের বিভিন্ন মোড়ে এবং মেলাগুলোতেও এখন ভিড় জমায় ভোজনরসিকরা। পিঠাপুলির এই সংস্কৃতি গ্রামীণ সৌহার্দ্য ও বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্যকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকিয়ে রাখছে।

ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ দোকান, ক্ষয়ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ দোকান, ক্ষয়ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা

ফরিদপুরের সালথায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানগুলো বন্ধ থাকা অবস্থায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমে একটি দোকানের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা বাজারের মসজিদের মাইকে আগুন লাগার খবর প্রচার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই আগুনে তিনটি দোকানের মালামাল পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সার ও কীটনাশকের দোকান, একটি হার্ডওয়্যারের দোকান এবং একটি রাইস মিল।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনে দোকানগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সালথা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল জলিল বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

ফরিদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

জাকির হোসেন ,সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

ফরিদপুরের সালথায় পারিবারিক কলহের জেরে চাঁদনী আক্তার (২৫) নামে দুই সন্তানের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত চাঁদনী আক্তার রাঙ্গাদিয়া গ্রামের সুমন সরদারের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন চাঁদনী আক্তার। পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে।
এ বিষয়ে সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খাঁন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট: প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অগ্রযাত্রায় যুক্ত থাকা জাতীয় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মরহুম অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, “সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের কোনো বাধা-বিপত্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে না। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সংবাদ উপস্থাপনা করতে পারছেন।” ফরিদপুরের সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ফরিদপুরে আপনারা সকলেই স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে পারছেন এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা দৈনিক কালবেলা পত্রিকার বিগত দিনগুলোর সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সরকারের ইতিবাচক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে নির্ভীক ও অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বক্তারা দৈনিক কালবেলা পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক পান্না বালা, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনাল, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরিজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ একসঙ্গে কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় ।