শীতের আমেজেই বাড়ছে রোগবালাই: সুস্থ থাকতে শুরুতে যা করবেন
ভোরের কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে প্রকৃতি যেমন রূপ বদলাচ্ছে, তেমনি ঘরে ঘরে বাড়ছে ঠান্ডা, সর্দি, কাশি ও জ্বরের প্রকোপ। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের শুরুতে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পায়। ফলে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত নানা রোগ সহজেই বাসা বাঁধে শরীরে। এই সময়ে সামান্য অসচেতনতা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই শীতের শুরুতেই কিছু জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
বছরের এই সময়ে মূলত যেসব রোগের প্রকোপ দেখা দেয়: শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা: বাতাসে ধুলাবালি বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
সর্দি-কাশি ও টনসিলাইটিস: ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে গলা ব্যথা, সর্দি ও জ্বর সাধারণ বিষয়।
ত্বকের সমস্যা: শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ফেটে যাওয়া, চুলকানি বা একজিমা দেখা দেয়।
হৃদরোগের ঝুঁকি: ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্তনালী সংকুচিত হওয়ায় রক্তচাপ বাড়তে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সুস্থ থাকতে শীতের শুরুতে যা করণীয় শীতের এই সময়ে সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:
১. পোশাক নির্বাচন ও আবহাওয়া সচেতনতা হালকা গরম কাপড়: শীতের শুরুতেই হঠাৎ ভারী সোয়েটার না পরে হালকা চাদর, ফুল হাতা শার্ট বা জ্যাকেট ব্যবহার করুন।
কান ও গলা ঢেকে রাখা: মোটরসাইকেল আরোহী বা ভোরে যারা বাইরে বের হন, তারা অবশ্যই কানটুপি এবং মাফলার ব্যবহার করবেন।
২. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও করোনা-ফ্লু প্রতিরোধ নিয়মিত হাত ধোয়া: বাইরে থেকে ফিরে সাবান-পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে।
মাস্ক ব্যবহার: বাতাসে ধূলিকণা ও জীবাণু ছড়ানো রোধে ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস করুন।
৩. খাদ্যাভ্যাস ও তরল গ্রহণ কুসুম গরম পানি: ঠান্ডা পানির পরিবর্তে হালকা কুসুম গরম পানি পান করুন। এটি গলা পরিষ্কার রাখে।
ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবু, আমলকী, কমলা, মাল্টা এবং শীতকালীন সবুজ শাকসবজি রাখুন।
মধু ও আদা চা: প্রতিদিন সকালে মধু বা রঙ চায়ে আদা-তুলসি পাতা মিশিয়ে খেলে ঠান্ডা-কাশি থেকে দূরে থাকা যায়।
৪. ত্বক ও চুলের যত্ন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে ভালো মানের লোশন, গ্লিসারিন বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।
অতিরিক্ত গরম পানি বর্জন: গোসলের সময় অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার না করে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন, এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ সতর্কতা পরিবারের শিশু এবং প্রবীণদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তাদের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে। শিশুদের যেন কোনোভাবেই ঠান্ডা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটতে দেওয়া যাবে না। বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং ভোরে অতিরিক্ত ঠান্ডায় বাইরে না হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞের শেষ কথা: শীতকালীন রোগগুলো সাধারণত ছোঁয়াচে বা ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক ফল। তবে যেকোনো সমস্যায় নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক বা ওষুধ না খেয়ে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একটু সচেতনতাই পারে পুরো শীতকালকে আনন্দময় ও স্বাস্থ্যকর রাখতে।





