মধুমতীর ভাঙনে বিপর্যস্ত খোলাবাড়িয়া, সরেজমিনে নদীভাঙন পরিদর্শনে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইস ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোত ও তীব্র ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
স্থানীয়রা জানান, মধুমতী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও নদীতে হারিয়ে গেছে। চোখের সামনে নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার।
এ পরিস্থিতিতে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বুড়াইস ইউনিয়নের নদীভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নাসির।
পরিদর্শনকালে তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক নূরজ্জামাল খসরু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব, প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর, সাংগঠনিক সম্পাদক ইস্রাফিল মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোনিরুজ্জামান মোনির, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন, প্রচার সম্পাদক নিয়ামত হোসেন পারভেজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
পরিদর্শনকালে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নাসির বলেন, নদীভাঙন শুধু মাটি ভাঙার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের বসতভিটা, জীবিকা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে। নদীভাঙনে যারা ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়েছেন, তাদের দুর্ভোগ অত্যন্ত কষ্টদায়ক। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মধুমতীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সামনে আরও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, বুড়াইস ইউনিয়নের নদীভাঙন স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ধরনের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, নদীভাঙনের কারণে যারা সর্বস্ব হারাচ্ছেন, তাদের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখেছি। মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। কখন কার ঘরবাড়ি কিংবা জমি নদীগর্ভে চলে যায়, তা নিয়ে প্রতিনিয়ত উৎকণ্ঠায় থাকতে হচ্ছে। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি স্থায়ীভাবে নদীতীর সংরক্ষণ ও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তা না হলে মধুমতীর ভাঙনে আরও বহু পরিবার তাদের শেষ আশ্রয়টুকুও হারাতে পারে।





