সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার চব্বিশের সেই ফেসবুক পোস্ট আলোচনায়

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার চব্বিশের সেই ফেসবুক পোস্ট আলোচনায়
google news দৈনিক দৈনিক ফতেহাবাদ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম শাহরিয়ারকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান পরিবার। ১৩ বছরের অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর সামনে এসেছে তার মায়ের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্ট।
ওই পোস্টে কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ড. নাহিদা বেগম। পরে নিজের ফেসবুক পোস্টে সেদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘স্পট থেকে এলাম, চোখের সামনে ছররা গুলি আর টিয়ারশেল নিক্ষেপ দেখলাম।’
তিনি জানান, আতঙ্কিত ছাত্রীদের ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন। আহত শিক্ষার্থীদের জন্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
ড. নাহিদা বেগম লিখেছিলেন, ‘জানি কিছু করতে পারব না তবু আতঙ্কিত ছাত্রীদের ফোন পেয়ে দৌড়ে ছুটলাম, আহত ছাত্রদের জন্য হাতে পেস্ট নিয়ে ঘোরা ছাড়া করার কিছু ছিলও না।’
ওই পোস্টে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। লিখেছিলেন, ‘আমি বিপ্লব আন্দোলন করা মানুষ না। করিও নাই ওইভাবে কখনো।’ তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
হল ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার পরামর্শও দেন ড. নাহিদা। কোনো ছাত্রী পথে সমস্যায় পড়লে কিংবা থাকার জায়গার প্রয়োজন হলে তাকে ফোন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, প্রয়োজনে তার কাছে থাকার ব্যবস্থা করা যাবে।
পোস্টের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, ‘সবাই ভালো থাকুক।’
দুই বছর পর সেই মায়ের ঘরেই শোক
জুলাইয়ের সেই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর নিজের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছেন ড. নাহিদা বেগম। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর তার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার। পরে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালায়।
প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
‘ওই ছিল আমাদের সব’
রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গন্ধমতি ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাসার পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দাফনের আগে অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই, আমি কেবল আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই।’
ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন মা ড. নাহিদা বেগমও। তিনি বলেন, ‘ওই ছিল আমাদের সব। ওকে ঘিরেই আমাদের কত স্বপ্ন ছিল, কত পরিকল্পনা ছিল। ওর হাসি, ওর কথা, ওর ছোট ছোট আবদারেই আমাদের ঘরটা ভরে থাকত। আজ সেই ঘরেই ও নেই, ওর বই-খাতা আছে, বিছানায় ওর জিনিসপত্র আছে, কিন্তু ও নেই।’
অপ্রতিম ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ দোকান, ক্ষয়ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ দোকান, ক্ষয়ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা

ফরিদপুরের সালথায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানগুলো বন্ধ থাকা অবস্থায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমে একটি দোকানের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা বাজারের মসজিদের মাইকে আগুন লাগার খবর প্রচার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই আগুনে তিনটি দোকানের মালামাল পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সার ও কীটনাশকের দোকান, একটি হার্ডওয়্যারের দোকান এবং একটি রাইস মিল।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনে দোকানগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সালথা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল জলিল বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

ফরিদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

জাকির হোসেন ,সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

ফরিদপুরের সালথায় পারিবারিক কলহের জেরে চাঁদনী আক্তার (২৫) নামে দুই সন্তানের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত চাঁদনী আক্তার রাঙ্গাদিয়া গ্রামের সুমন সরদারের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন চাঁদনী আক্তার। পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে।
এ বিষয়ে সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খাঁন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

দৈনিক ফতেহাবাদ রিপোর্ট: প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অগ্রযাত্রায় যুক্ত থাকা জাতীয় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মরহুম অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, “সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের কোনো বাধা-বিপত্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে না। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সংবাদ উপস্থাপনা করতে পারছেন।” ফরিদপুরের সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ফরিদপুরে আপনারা সকলেই স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে পারছেন এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা দৈনিক কালবেলা পত্রিকার বিগত দিনগুলোর সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সরকারের ইতিবাচক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে নির্ভীক ও অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বক্তারা দৈনিক কালবেলা পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক পান্না বালা, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনাল, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরিজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ একসঙ্গে কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় ।