‘হা-মীম গ্রুপ সমকাল মেধাবৃত্তি’ পেলেন- ৩৭ শিক্ষার্থী

‘হা-মীম গ্রুপ সমকাল মেধাবৃত্তি’ পেয়েছেন ৩৭ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে চলতি বছর ৩১ জনের বৃত্তি নবায়ন হয়েছে এবং নতুন করে যুক্ত হয়েছেন আরও ৬ শিক্ষার্থী। বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা মাসে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে অভিনন্দনপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষক, লেখক ও গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রানা চৌধুরী, হা-মীম গ্রুপের পরিচালক ও সমকালের প্রকাশক আবুল কালাম আজাদ, ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার ফোরামের সভাপতি কর্নেল (অব.) ফারুক ইয়া আযম এবং হা-মীম গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউর রহমান।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান।
বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।
প্রতিবছর নতুন শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার পাশাপাশি পুরনো শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি নবায়ন করা হয়। ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা না থাকলে বৃত্তি বাতিলও করা হয়।
এ বছর নতুন করে বৃত্তি পাওয়া ছয় শিক্ষার্থী হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নিকোলাস ডি. রোজারিও, আইন বিভাগের তৌহিদুল ইসলাম, গণিত বিভাগের নাসিম মণ্ডল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শোয়েব ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অর্কপ্রভ রায় এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাদিয়া সুলতানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রানা চৌধুরী বলেন, ‘মেধাবৃত্তির সহায়তায় তোমরা সুপ্রতিষ্ঠিত হলে অতীত ভুলে যাবে না। তোমরা যে স্বপ্ন দেখেছ, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। এমনভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে, যাতে তাদের উচ্চশিক্ষার পথটা সহজ হয়। তোমাদের পাশে হা-মীম গ্রুপ ও সমকাল ছিল, থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, অনেকের সামর্থ্য থাকলেও এ ধরনের উদ্যোগ নেন না কিংবা নিজেদের বিত্তের একটি অংশ অন্যদের জন্য ব্যয় করেন না। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হা-মীম গ্রুপ ও সমকালকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি পেয়েছেন, তারা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মেধাবী। তবে বৃত্তিপ্রাপ্তদেরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়ে তারাও যেন অন্যের পাশে দাঁড়ান—এ বিষয়টি মাথায় রেখেই তাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
কর্নেল (অব.) ফারুক ইয়া আযম বলেন, মেধাবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। এতে শুধু বৃত্তিপ্রাপ্তরাই নন, অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হবেন। তাই নিজেদের জীবনকে ভালো করার পাশাপাশি আশপাশের ছোটদেরও অনুপ্রাণিত করতে হবে।
অনুভূতি প্রকাশ করে শিক্ষার্থী নিকোলাস ডি. রোজারিও বলেন, এই বৃত্তি তার জন্য শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, মনোবল বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে। সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে চলার জন্য এটি তাকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
শিক্ষার্থী সামিউল হক বর্ষণ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই পুরস্কার পেতে পছন্দ করি। ২০২৩ সাল থেকে এই মেধাবৃত্তি পেয়ে আসছি। এটি ভালো ফলাফল করতে আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়।’
আরেক শিক্ষার্থী মুমতাহিনা দেওয়ান মেধা বলেন, এক বছর ধরে পাওয়া বৃত্তির অর্থ থেকে পকেট খরচের পাশাপাশি নিজের ছোট ছোট শখও পূরণ করতে পারছেন তিনি।
অভিভাবক জয়নাল আবেদীন বলেন, তার মেয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার সময় এই মেধাবৃত্তি পেয়েছে। বৃত্তিটি তার মেয়েকে অনেক সহযোগিতা করেছে। ভবিষ্যতেও যেন এই বৃত্তি অব্যাহত থাকে—এটাই তার প্রত্যাশা।





