“গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রাজবাড়ীতে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযান। ‘অধ্যাপক এবিএম সাত্তার ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’ এর উদ্যোগে জেলার বরাট এলাকায় এই ব্যতিক্রমী পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এ কর্মসূচির আওতায় চিরাচরিত রীতির বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে স্থানীয় প্রতিটি গৃহস্থালিতে সরাসরি ফলদ বৃক্ষ রোপণ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাড়িতে একটি করে উচ্চ ফলনশীল ‘চায়না থ্রি’ লিচু এবং একটি করে উন্নত জাতের আম গাছের চারা রোপণ নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবেশবিদরা মনে করছেন, এই গ্রিন-ইনিশিয়েটিভ কেবল গ্রামীণ বনায়নই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান বিশ্ব যখন তীব্র বৈশ্বিক উষ্ণতা, অনাবৃষ্টি এবং চরম জলবায়ু সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। বৃক্ষ মানবজাতির অস্তিত্বের প্রধান চালিকাশক্তি, যা আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর কার্বন শুষে নেয়। ফলদ বৃক্ষ রোপণের এই দ্বিমুখী সুবিধা—প্রকৃতির সবুজায়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ—দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পরিবেশ গঠনে সহায়ক হবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকের এই ‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’ স্লোগানকে নিজেদের জীবনে ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ে এই মহতি উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের পেছনে যারা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন। ‘অধ্যাপক এবিএম সাত্তার ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’ এর অন্যতম নির্বাহী সদস্য জনাব মো: মোস্তফা কামাল নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচি সফল করতে মূল ভূমিকা রাখছেন।
এ সময় মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির গতি ও অনুপ্রেরণা বাড়িয়েছেন সমাজকর্মী জাহিদ নবী, জেরিন আফরোজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও পারিবারিক ট্রাস্টগুলোর এমন প্রাতিষ্ঠানিক ও সুপরিকল্পিত অংশগ্রহণ দেশের সামগ্রিক বনজ সম্পদ বৃদ্ধিতে এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আবু সাঈম খান, স্টাফ রিপোর্টার: